সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

সরকারি খাদ্যশস্য বিক্রির সময় ধরা পড়লেন ব্যবসায়ী

মাগুরার মহম্মদপুরে দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ৪৩৪ কেজি চাল নিয়ে যাওয়ার সময় একটি ইজিবাইক আটক করেছে স্থানীয় জনতা।

 

 

 

বুধবার (১৩ মে) দুপুরে উপজেলার হাটবাড়িয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

 

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাগড়া বাজারের ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ বা টিসিবির ডিলার বাবু এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রফিকুল ইসলাম বাবু উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণের পরিবর্তে সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত চাল গোপনে বিক্রি করে দেন। পরে চালগুলো ইজিবাইকে করে অন্যত্র নেওয়ার সময় হাটবাড়িয়া বাজার এলাকায় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা ইজিবাইকটি আটক করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চাল জব্দ করে।

চাল ক্রেতা মাগুরার বাহারবাগ এলাকার মো. ফারুক বিশ্বাস জানান, তিনি বস্তা কিনতে বাজারে এসেছিলেন। এ সময় তাকে চাল কেনার প্রস্তাব দেওয়া হলে তিনি ৩০ টাকা কেজি দরে চাল কিনেন। তবে, এটি টিসিবির সরকারি চাল ছিল বলে তিনি জানতেন না।

অভিযুক্ত ডিলার রফিকুল ইসলাম বাবু চাল বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমি আমার গত মাসের জমাকৃত চাল বিক্রি করেছি। সরকারি চাল বাইরে বিক্রি করার নিয়ম আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেকেই চাল নিতে চান না, সে কারণেই চাল বিক্রি করেছি।

মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, আজ দুপুরে আমরা মহম্মদপুর এর নাগড়া এলাকায় কিছু চাল জব্দ করি। সাথে সাথে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানায়। ঘটনার জনগুরুত্ব বিবেচনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।

 

 

সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রেস ব্রিফিং

সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে অগ্রাধিকারমূলক কার্যক্রম সম্পর্কে ঠাকুরগাঁওয়ে এক প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে এ প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিস।
প্রেস ব্রিফিংয়ে সভাপতিত্ব করেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক। এ সময় তিনি সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষ রোপণ, নারীর জন্য গাড়ি, কৃষক কার্ড এবং কৃষি ঋণ মওকুফসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের সুফল নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এসময় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম, নির্বাচনি ইশতেহারের বাস্তবায়ন অগ্রগতি এবং জনসেবামূলক উদ্যোগ নিয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করা হয়।
সভায় সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করা হয় এবং জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রশংসা করা হয়।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নাজমুল হক সুমন, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাজেদুর ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোদাদাদ হোসেন, জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মামুন বিশ্বাস, ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাবের সভাপতি লুৎফর রহমান মিঠু, জেলা তথ্য অফিসার এইচ. এম. শাহজাহান মিয়াসহ অন্যান্যরা।

সময় টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে সমন জারি

 

বেসরকারি গণমাধ্যম সময় টেলিভিশনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) আহমেদ জোবায়েরসহ ছয়জনকে ১৭ জুন হাজির হতে সমন জারি করেছেন আদালত। প্রতারণা, বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এ সমন জারি করা হয়।

 

 

 

বুধবার (১৩ মে) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ইসরাত জাহান এ আদেশ দেন।

 

 

 

সমন জারি করা আসামিরা হলেন- সময় টিভির এমডি আহমেদ জোবায়ের, শামীমা সুলতানা চৌধুরী, নাওয়ার জয়ীতা, আহমেদ রাফিদ কাদের ঋভু, শেখ মাহমুদ ইয়াসিন ও মো. সানী চৌধুরী।

আদেশে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় অপরাধের অভিযোগের বিষয়ে জবাব দিতে আসামিদের আগামী ১৭ মে সশরীরে অথবা আইনজীবীর মাধ্যমে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

 

নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকেছে পাহাড়ি ঢলে

ভারত সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় থেকে নেমে আসা আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নদীর বাঁধ ভেঙে ও উপচে পড়া পানিতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে বোরো ধানসহ বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

 

 

 

বুধবার (১৩ মে) সকাল থেকে ঢলের পানি দ্রুত লোকালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার গাজীরভিটা ইউনিয়ন।

 

 

 

স্থানীয়রা জানান, মেনংচরি ও বোরাঘাট নদীর পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়ে বাঁধ উপচে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এতে কালিয়ানি কান্দা, বোয়ালমারা, ভুবনকুড়া ও গাজীরভিটাসহ অন্তত ছয়টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া পৌর শহরের নিম্নাঞ্চলেও পানি প্রবেশ করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মঙ্গলবার রাত থেকে একটানা ভারী বৃষ্টি হচ্ছিল। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদ-নদীর পানিও দ্রুত বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে নদীর বাঁধ উপচে এবং ভাঙা অংশ দিয়ে ঢলের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। সকালে ঘুম থেকে উঠে অনেকেই দেখেন বাড়ির উঠান ও ঘরে পানি ঢুকে গেছে। পরে তারা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন।

হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে কালিয়ানি কান্দা ও বোয়ালমারা এলাকায় পানিপ্রবাহ বেশি হওয়ায় অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন। শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী।

কৃষকরাও চরম দুশ্চিন্তায় সময় পার করছেন। তারা বলছেন, চলতি মৌসুমে ভালো ফলনের আশা করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ পাহাড়ি ঢলে জমির পাকা ধান ও অন্যান্য ফসল তলিয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। দ্রুত ভাঙা বাঁধ মেরামত এবং ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে। একই সঙ্গে পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

 

 

 

স্থানীয় বাসিন্দা আ. রশিদ বলেন, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বোরাঘাট নদীসহ আশপাশের নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। একপর্যায়ে বাঁধ উপচে ও ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এতে নিম্নাঞ্চলের বাড়িঘর ও ফসলের খেতে পানি উঠে যায়। অনেক পরিবারের ঘরে পানি ওঠায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

 

 

 

আরেক বাসিন্দা রেজাউল আলম বলেন, গত কয়েক ঘণ্টার টানা ঢলে পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় অনেক পরিবার নিরাপদ স্থানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

 

 

 

হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ জানান, গাজীরভিটা ও ভুবনকুড়া এলাকার দুটি পয়েন্ট দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে এবং দুটি কাঁচা রাস্তা ভেঙে গেছে।

 

 

 

তিনি বলেন, পাহাড়ি ঢলের পানির গতি ও প্রবাহ আমরা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছি। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 

 

 

এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করলেও এখনো সরকারিভাবে ত্রাণ তৎপরতা শুরু হয়নি। দ্রুত ভাঙা বাঁধ মেরামত এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

 

উকুন মারার তেলের তীব্র গন্ধে স্কুলের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ

 

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের মুলাডুলি উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালীন অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শ্রেণিকক্ষে উকুন মারা বিষের বোতল ভেঙে বিষক্রিয়ার ঘটনায় তারা অসুস্থ হতে পারে।

 

 

 

বুধবার (১৩ মে) দুপুরের পর বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

 

 

 

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, প্রথমে কয়েকজন শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে ধীরে ধীরে আরও শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হতে শুরু করে। একপর্যায়ে বিভিন্ন শ্রেণির প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে।

ঘটনার পরপরই বিষয়টি শিক্ষার্থীদের অভিভাবক, ঈশ্বরদী থানা পুলিশ, উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকর্মীরা অসুস্থ শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। এ ছাড়াও অনেক অভিভাবক নিজ উদ্যোগে তাদের সন্তানদের বিভিন্ন যানবাহনে করে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।

ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল এবং ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব।

 

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মোহাম্মাদ শোয়াইব জানান, দুপুরের দিকে বিদ‍্যালয়ের একটি কক্ষে একটি বিষের বোতল ভেঙে গেলে প্রথমে দুই জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে, দেখে আতঙ্ক ও বিষের তীব্র গন্ধে একে একে প্রায় ৪০/৫০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে ।বর্তমানে অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে।আস্তে আস্তে অনেক শিক্ষার্থী সুস্থ হচ্ছেন ।

 

 

 

চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিষক্রিয়ার কারণে ৪০/৫০ জন শিক্ষার্থী হাসপাতালে আসে। এ ছাড়া আতঙ্ক ও প্যানিক অ্যাটাকের কারণেও কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে সবাই শঙ্কামুক্ত রয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী সুস্থ বোধ করায় অভিভাবকরা তাদের বাড়ি নিয়ে গেছেন।

 

 

 

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুর রহমান জানান, হাসপাতাল থেকে জানানো হয়েছে কেউ অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল, আবার কেউ শ্বাসকষ্টে ভুগছিল। বর্তমানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া।

 

 

পশুর হাটে এবার চমক ‘সুলতান’ নামের উট

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার লক্ষ্মীপুর এলাকায় একটি এগ্রো ফার্মে এবার কোরবানির পশুর হাটে যোগ হয়েছে ভিন্ন এক আকর্ষণ, বিশাল আকৃতির উট ‘সুলতান’।

 

 

 

প্রায় দুই মাস আগে রাজস্থান থেকে আনা এই উটটি খামারি ব্যবসায়ী জুয়েল আহমেদের উদ্যোগে বর্তমানে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ব্যতিক্রমী এই সংযোজন ইতোমধ্যেই কুমিল্লাজুড়ে সৃষ্টি করেছে ব্যাপক কৌতূহল।

 

 

 

প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন উট ‘সুলতান’কে একনজর দেখতে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে উৎসাহ ও আগ্রহ।

উটের দেখভালকারী শ্রমিকরা জানান, গরুর তুলনায় উট পালন সহজ। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, উট সাধারণত গরুর মতোই খাবার খায় এবং এর পরিচর্যায়ও কম কষ্ট হয়।

 

খামারি ব্যবসায়ী জুয়েল আহমেদ বলেন, ভিন্ন কিছু করার চিন্তা থেকেই রাজস্থান থেকে উটটি আনা হয়েছে। ভবিষ্যতে উট পালন দেশে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে বলে বিশ্বাস করি।

 

 

স্থানীয়দের মতে, কুমিল্লার পশুর হাটে এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন আগে খুব কমই দেখা গেছে। ফলে ‘সুলতান’ এখন হাটের অন্যতম প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।

 

সান মারিনো ম্যাচে বাংলাদেশ দলে থাকছে বড় চমক

আগামী জুনে সান মারিনোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। সেই ম্যাচকে সামনে রেখে খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তাদের ভিসা প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। আজ বুধবার ভিসার জন্য আবেদন করা ফুটবলারদের মধ্যে ছিলেন গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকো, যা তার জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে।

 

 

 

এক সময় জাতীয় দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য গোলকিপার ছিলেন জিকো। ২০২৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে তিনি টুর্নামেন্টসেরা গোলকিপারের স্বীকৃতি পান। তবে শৃঙ্খলাজনিত কিছু ইস্যু এবং সাবেক কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়ায় জাতীয় দলে অনিয়মিত হয়ে পড়েন তিনি।

 

 

 

চলতি মৌসুমে বসুন্ধরা কিংসর হয়ে ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্স করলেও প্রথমে সান মারিনো সফরের পরিকল্পনায় ছিলেন না জিকো। তাকে রাখা হয়েছিল মালদ্বীপে অনুষ্ঠিতব্য চার জাতি টুর্নামেন্টের দলে। তবে শেষ পর্যন্ত বাফুফে সান মারিনো সফরের জন্যও তার ভিসা করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অধিনায়ক জামাল ভূইয়া, হামজা চৌধুরি ও শমিত সোমের বিদেশি পাসপোর্ট থাকায় তাদের আলাদা ভিসার প্রয়োজন হচ্ছে না। অন্যদিকে তপু বর্মণ, রাকিব হোসেন, মিতুল মারমা, শেখ মোরসালিনসহ আরও কয়েকজন ফুটবলার ভিসার জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়েছেন।

নতুন কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান থাকায় আপাতত স্থানীয় কোচদের তত্ত্বাবধানে দুটি দলের প্রস্তুতি চলছে। সান মারিনো সফরের চূড়ান্ত দল শিগগিরই ঘোষণা করবে বাফুফে।

 

দুইদিনের সফরে সিরাজগঞ্জে আসছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু

 

দুইদিনের সরকারি সফরে সিরাজগঞ্জে আসছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

 

 

 

বুধবার (১৩ মে) মন্ত্রীর একান্ত সচিব (উপসচিব) মিয়া মোহাম্মদ কেয়াম উদ্দিন স্বাক্ষরিত সফরসূচিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

 

 

ওই সফরসূচিতে উল্লেখ করা হয়েছে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জে নিজ বাসভবনে এসে পৌঁছবেন। শুক্রবার (১৫ মে) সকাল ১০টায় শহীদ শামসুদ্দিন স্টেডিয়ামে আয়োজিত প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ টুর্ণামেন্ট-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগদান করবেন। এদিন সকাল ১১টায় সিরাজগঞ্জ কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজে অভিভাবক সমাবেশ ও গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

 

 

 

 

দুপুরে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় ও মসজিদ অজুখানার দ্বিতীয় তলা নির্মাণকাজের উদ্বোধন ও সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় দলীয় কার্যালয়ে জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

 

 

 

শনিবার (১৬ মে) সকাল ১০টায় মুক্তির সোপান এলাকায় বৈচিত্রের ঐক্য ও সংস্কৃতির মিলনমেলার বর্ণাঢ্য র‌্যালীর উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। সকাল ১১টায় সদর উপজেলা অডিটোরিয়াম উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়, বেলা আড়াইটায় কাওয়াকোলা ইউনিয়নের উপকারভোগীদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। এইদিন সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে সিরাজগঞ্জ ত্যাগ করবেন।

 

 

বিতর্কের মুখে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ সিনেমার সেন্সর বাতিল

 

অবশেষে বিতর্কিত সিনেমা ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারজ’র সেন্সর বাতিল হলো। সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন অভিনেতা ও নির্মাতা হাসান জাহাঙ্গীর। সেন্সর সনদ হাতে পেয়ে ১৫ মে প্রেক্ষাগৃহে এটি মুক্তির ঘোষণা দিয়েছিলেন নির্মাতা। সে লক্ষ্যেই পোস্টার ও ট্রেলারও প্রকাশ করা হয়। যেখানে দেখা যায় চিত্রনায়িকা মৌসুমীকে। আর তাতেই বাধে বিপত্তি। অভিযোগ তুলেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী।

 

 

 

তিনি জানান, এ ধরনের কোনো সিনেমায় তিনি অভিনয় করেননি। বিষয়টি নিয়ে এক ফেসবুক লাইভে নায়িকার স্বামী ওমর সানীও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এমনকি সিনেমাটির মুক্তি স্থগিত করার দাবিও তুলেন। শুধু মৌসুমী নয়, অভিযোগ করেন ছোট পর্দার আরেক অভিনেত্রী জেবা জান্নাত।

 

 

 

তার দাবি, নাটকের কথা বলে অভিনয় করিয়ে সেসব দৃশ্য সিনেমার ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি তার অনুমতি ব্যতীত পোস্টারে ছবিও ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জেবা জান্নাত নাটক ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনে লিখিত অভিযোগও জানান। এমনকি সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশনও দায়ের করেন।

অবশেষে জেবা জান্নাতের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সিনেমার সেন্সর বাতিল হলো। অভিনেত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা রহমান তানি। তিনি জানান, সিনেমার একজন সহঅভিনেত্রীর অভিযোগই ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’-এর সেন্সর বাতিল করা হয়েছে।

মাসুমা রহমান তানি বলেন, ‘আমরা চলচ্চিত্রটির সেন্সর দিয়েছিলাম। তখন এটির বিরুদ্ধে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। এরপর বিষয়টি নিয়ে জেবা জান্নাত নামে প্রজেক্টের সঙ্গে যুক্ত একজন লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে জেবা ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ একটি নাটক বলে তার সঙ্গে চুক্তি করা হয় বলে জানান।

 

 

পরে সিনেমা হিসেবে মুক্তি দেওয়ার পরকিল্পনা করলে তিনি আমাদের কাছে অভিযোগ করেন। তার সঙ্গে নাটকের চুক্তি হয়েছে, সিনেমার বিষয়ে কোনো চুক্তি হয়নি। সে জন্যই আমরা এর মুক্তির অনুমতি বাতিল করেছি।’

 

 

 

এদিকে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী। সেখানেই হাসান জাহাঙ্গীরের সঙ্গে একটি নাটকে কাজ করেছিলেন তিনি।

 

 

 

এ সিনেমা প্রসঙ্গে মৌসুমী এক অডিও বার্তায় বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে এসে একটি মেয়ের স্ট্রাগল টাইমের ছোট গল্প নিয়ে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নির্মাণের কথা ছিল। হাসান জাহাঙ্গীর আমাকে অনেক অনুরোধ করার পর আমি রাজি হয়েছি। শুরুতে এটা এক ঘণ্টার একটি নাটক ছিল। দুই দিনে শুটিং শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তিন দিন লেগে যায়।

 

 

 

কিছুদিন পর নির্মাতা এসে বলেন, এটার শুটিং তো বেশি হয়েছে, আমরা টেলিফিল্ম হিসেবে প্রচার করতে চাই। তাতেও আমি রাজি হয়ে কাজটি শেষ করেছি। কিন্তু খবরে দেখছি, ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নাকি সিনেমা হিসেবে আসছে। বিষয়টি শুনে অবাক হয়েছি।’

 

 

 

এদিকে সেন্সর বাতিলের বিষয়টি জানতে পরিচালক হাসান জাহাঙ্গীরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সাড়া দেননি।

 

 

পরিত্যক্ত রেল লেনকে সড়কপথে রূপ দিচ্ছে যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ

যমুনা সেতুর পরিত্যক্ত রেল লেনকে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করতে এবং সেতুর মূল অবকাঠামোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় ধরনের সংস্কার কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সেতুর ডেক সংস্কার, প্রশস্তকরণ ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ এবং চীনের সিসিসিসি-সিআরবিসি জেভি’র মধ্যে এক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

 

 

 

বুধবার (১৩ মে) সেতু কর্তৃপক্ষের সম্মেলন কক্ষে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

 

 

 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) ও অতিরিক্ত সচিব আলতাফ হোসেন সেখ।

সেতু কর্তৃপক্ষের পক্ষে প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. ফেরদাউস এবং সিসিসিসি-সিআরবিসি জেভি’র পক্ষে ওয়াং বিনকোয়িং চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এসময় সেতু বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে আলতাফ হোসেন সেখ বলেন, ‘দ্রুততম সময়ের মধ্যে গুণগত মান বজায় রেখে এই সংস্কার কাজ শেষ করার নির্দেশনা রয়েছে। দেশের উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের সাথে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম যমুনা সেতুর আধুনিকায়ন ও দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে এই প্রকল্প একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।’

তিনি আরও জানান, যমুনা সেতুতে যাতায়াতের রাস্তা বর্তমানে ৩.৫ মিটার প্রশস্ত করা হবে। বিশেষ করে রেল সংযোগ পৃথক হওয়ার পর থেকে অব্যবহৃত থাকা রেল লেনটিকে সংস্কার করে সাধারণ যান চলাচলের উপযোগী করা হবে। এতে সেতুর ওপর যানবাহনের ধারণক্ষমতা বাড়বে এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে মূল কাঠামোর সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

 

 

 

এই সংস্কার কাজ শেষ হলে উত্তরাঞ্চলের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও নির্বিঘ্ন হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে।

 

 

 

এছাড়াও, অনুষ্ঠানে সেতু বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং সিসিসিসি-সিআরবিসি জেভি’র উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

বাফুফের পরিকল্পনায় নতুন মোড়, কোচের পদত্যাগে ইঙ্গিত

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ কে হবেন, এ নিয়ে জল্পনাকল্পনার শেষ নেই। তবে হুট করেই দৃশ্যপটে এল নতুন মোড়। গায়ানা জাতীয় দলের কোচের পদ থেকে আকস্মিক পদত্যাগ করেছেন বাফুফের সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা টমাস ডুলি। এই পদত্যাগ ঘিরেই জোরালো গুঞ্জন শুরু হয়েছে—তবে কি হাভিয়ের কাবরেরার উত্তরসূরি হিসেবে বাংলাদেশের ডাগআউটে দেখা যাবে এই হাই-প্রোফাইল জার্মান-মার্কিন কোচকে?

 

 

 

​বাফুফে এরই মধ্যে নতুন কোচের জন্য ১১ জনের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা (শর্টলিস্ট) চূড়ান্ত করেছে এবং আগামী ১৫ মে নতুন কোচের নাম ঘোষণা করার কথা রয়েছে। ঠিক তিন দিন আগে ১২ মে ডুলির পদত্যাগ করার বিষয়টি কোনো সাধারণ কাকতালীয় ঘটনা হতে পারে না। ৯ মাস গায়ানার দায়িত্বে থেকে অপরাজিত রেকর্ড গড়ার পরও ‘নতুন চ্যালেঞ্জ’ গ্রহণের কারণ দেখিয়ে তার বিদায় নেওয়া ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বাংলাদেশের প্রস্তাবটি হয়তো তাঁর কাছে এখন অনেক বেশি বাস্তবসম্মত।

 

 

 

৬৪ বছর বয়সী ডুলি খেলোয়াড় হিসেবে যেমন বুন্দেসলিগা ও উয়েফা কাপ জয়ী। কোচ হিসেবেও তার প্রোফাইল বেশ ভারী। ছিলেন জার্মান কিংবদন্তি ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমানের সহকারীও। বিশেষ করে ফিলিপাইন জাতীয় দলকে সাফল্য এনে দেওয়া এবং প্রথমবার এশিয়ান কাপের মূল পর্বে কোয়ালিফাই করানোর অভিজ্ঞতা তাকে বাফুফের তালিকার শীর্ষে রাখার বড় কারণ হতে পারে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন বর্তমানে এমন একজন অভিজ্ঞ কোচ খুঁজছে যিনি এশিয়ান ফুটবল সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখেন।

​তবে ডুলির কোচিং ক্যারিয়ারে শৃঙ্খলার বিষয়টি যেমন প্রশংসিত, তেমনি গায়ানায় স্থানীয় খেলোয়াড়দের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব কিছুটা বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছিল। বাফুফের শর্টলিস্টে থাকা অন্য ১০ জন প্রার্থীর নাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা না হলেও, ডুলির পদত্যাগের পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন শুধুই তিনি।

টমাস ডুলিই কি তবে বাংলাদেশের পরবর্তী হেড কোচ হতে যাচ্ছেন? নাকি শেষ মুহূর্তে আসবে অন্য কোনো চমক। বাফুফের টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম হিলটন বলেছেন, ‘টমাস ডুলি আমাদের সংক্ষিপ্ত তালিকায় আছেন। এখন কোচ নিয়োগের বিষয়টি পুরোপুরি সভাপতি নিজেই দেখছেন। তিনি ১৫ মে ঘোষণা দেবেন বলে জানি।’

 

গাঁজাসেবন ছাড়া নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারী হওয়া যায় না: রাশেদ খাঁন

 

‘গাঁজাসেবন না করলে নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারী হওয়া যায় না’—বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান বিএনপি নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন। এছাড়াও ‘একজন লোক শিবির থেকে বাম হয় কীভাবে’—এমন প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

 

 

 

বুধবার (১৩ মে) সকাল ৯টা ৪৩ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া স্ট্যাটাসে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

 

 

 

রাশেদ খাঁন লিখেন, ‘গাঁজাসেবন না করলে নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী হওয়া যায় না। অতীতে সে জামায়াতে ইসলামীকে গালিগালাজ করেছে। এখন জামায়াতের সাথে মিতালি করে বিএনপিকে গালিগালাজ করছে।

তিনি লিখেন, ‘নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী জামায়াতে ইসলামীকে বলেছে, (১) জামায়াতে ইসলামী ভারতের এক্সটেনশন, (২) সংস্কারের নামে ভণ্ডামি করছে, (৩) মুনাফেকের দল, (৪) ধর্মের নামে চেতনার ব্যবসা করছে, (৫) জামায়াতের মুখে এক অন্তরে আরেক, (৬) জামায়াতের রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। তাদের রাজনৈতিক দর্শন ও অতীত আচরণ বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মানচিত্র ও জাতীয় চেতনার পরিপন্থী ইত্যাদি!’

 

একটা দল সম্পর্কে এতকিছু বলার পরে আবার সেই দল থেকে নির্বাচন করা একমাত্র ‘গাঁজাসেবন’ করলেই সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক লিখেন, ‘আমি এনসিপিকে বলবো, দ্রুত তার ডোপ টেস্ট ও চিকিৎসা করুন। অন্যথায় তার শরীরে প্রতিদিন যে পরিমাণ নিকোটিন ঢুকছে, আর এর প্রতিক্রিয়ায় আবোলতাবোল বকছে.. না জানি আবার জামায়াতে যোগদান করে এনসিপিকে নিয়ে কি বলা শুরু করে যে, এনসিপি জাতির সাথে গাদ্দারি করা শুরু করেছে…! জামায়াতে ইসলামী পারেও বটে!’

 

 

রাশেদ খাঁন আরও বলেন, ‘তাদের রাজনীতিকে নিয়ে একেরপর এক প্রশ্ন তোলা নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীই আজকাল তাদের আইডল। কারণ সে এখন রুপ বদলে ফেলে জামায়াতপন্থী হয়েছে! পডকাস্টে বলেও বেড়াচ্ছে, সে নাকি শিবিরের সাথী ছিলো! অথচ ক্যাম্পাসে দেখেছি, সে বাম করে….! একজন লোক শিবির থেকে বাম হয় কিভাবে?’

 

 

হামে শিশু মৃত্যু: ড. ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টার বিচার দাবি

 

‎হামে শিশু মৃত্যুর জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমসহ দোষীদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে আইনজীবীরা।

 

 

 

বুধবার (১৩ মে) বিকেলে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ আইনজীবী ব্যানারে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

 

বিক্ষোভ সমাবেশে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের একাংশ এতে অংশগ্রহণ করেন। এসময় আওয়ামীপন্থী আইনজীবী মো. কায়েস আহমেদ অর্নব, সিফাত আমিনুল করিম, গোলাম রাব্বানি, রাসেল আহমেদ, ফারজানা ইয়াসমিন রাখিসহ শতাধিক আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।

 

এসময় আইনজীবীরা সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিচার দাবি করেন।

 

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ইউনিসেফের পক্ষ থেকে সতর্ক করা সত্ত্বেও অন্তর্বর্তী সরকার টিকার প্রচলিত সংগ্রহ পদ্ধতি পরিবর্তন করে ‘উন্মুক্ত দরপত্র’ (ওপেন টেন্ডার) পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। ইউনিসেফের অনুরোধ উপেক্ষা করার ফলে দেশে হামের টিকার তীব্র সংকট দেখা দেয়।

বক্তাদের দাবি, সঠিক সময়ে টিকা না পাওয়ায় ৪০০’র বেশি শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।

 

 

 

আয়োজকদের পক্ষে কায়েস আহমেদ অর্ণব নামে এক আইনজীবী বলেন, স্বাস্থ্য খাতে অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও নূরজাহান বেগমকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। শুধু হাম নয়, অন্যান্য টিকার ক্ষেত্রেও এই সরকারের চরম গাফিলতি ছিল। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

 

 

 

মানববন্ধনে আইনজীবী সিলফাত আমিনুল করিম অভিযোগ করে বলেন, তৎকালীন সরকার আগের চুক্তিগুলো বাতিল করলেও কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেয়নি। শিশুদের এই অকাল মৃত্যুর দায় সরকারকে নিতে হবে এবং বর্তমান সরকারের কাছে আমরা এর বিচার দাবি করছি।

 

 

 

কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে কয়েকজন আইনজীবী চোখে ও মুখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান। এ সময় আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী বলেন, ‘চার শতাধিক শিশুর মৃত্যু কেবল গাফিলতি নয়, এটি একটি অপরাধ।’

 

 

শাহজাদপুরে শাশুড়ির পরকীয়া দেখে ফেলায় পুত্রবধূকে হত্যার অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে শাশুড়ির পরকীয়া দেখে পরিবারের সদস্যদের কাছে বলে দেওয়ায় ছেলের বউকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১৩ মে) সকালে উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের বৃ-আঙ্গারু গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
খবর পেয়ে শাহজাদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। এদিকে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শাশুড়ি এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা গা ঢাকা দিয়েছে। নিহত গৃহবধূ তাসলিমা (২২) বৃ-আঙ্গারু গ্রামের মমিনের পুত্র উজ্জ্বল হোসেনের স্ত্রী এবং একই গ্রামের তাহের মণ্ডলের কন্যা।
নিহত তাসলিমার বাবা তাহের মণ্ডল এবং এলাকাবাসী জানান, গত ৮ বছর পূর্বে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে তাসলিমা এবং উজ্জ্বলের বিয়ে হয়। স্বাভাবিক ভাবেই তাদের দাম্পত্য জীবন চলছিল। তাদের সংসারে দুইটি সন্তান রয়েছে। তবে সম্প্রতি তাসলিমা তার শাশুড়ির পরকীয়া সম্পর্ক দেখে ফেলে এবং পরিবারের সদ্যদের কাছে প্রকাশ করলে তার উপর নির্যাতনের খড়গ নেমে আসে। এই নির্যাতনের ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার রাতের কোন এক সময় তাসলিমাকে হত্যা করে ঘরের ভিতর ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করে। ঘটনা জানাজানির পর পরিবারের সকলে আত্মগোপনে চলে যায়।

শাহজাদপুর থানার ওসি (তদন্ত) নাজমুল কাদের জানান, লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। লাশের গলার দাগ দেখে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে এটা আত্মহত্যা নয়। তবে ময়না তদন্তের পর প্রকৃত কারন জানা যাবে।

উল্লাপাড়ায় চলতি মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহের উদ্বোধন

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় অভ্যন্তরীণ বোরো মৌসুমে ধান চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) সকালে খাদ্য বিভাগের আয়োজনে উপজেলার আর/এস খাদ্য গুদামে ধান- চাল সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৪ উল্লাপাড়া আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রায়হানুল ইসলাম, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আইনিন আফরোজ, ওসি এলএসডি মোঃ মিজানুর রহমান, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মোঃ আজাদ হোসেন আজাদ, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা শাহজাহান আলী, সাবেক পৌর মেয়র এম বেলাল হোসেন সহ গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা খাদ্য বিভাগ থেকে জানা গেছে, কৃষকদের কাছ থেকে এ বছরে কৃষি অ্যাপের মাধ্যমে আবেদন গ্রহন করে স্বচ্ছ ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে লটারির মাধ্যমে ধান চাল সংগ্রহ করা হবে।
সরকার এ বছরে উল্লাপাড়া থেকে ৩৬ টাকা কেজি দরে ৩ হাজার ২৮ মেট্রিক টন ধান, ৪৯ টাকা কেজি দরে ৪ হাজার ৩৭৭ মেট্রিক টন চাল, ৩৫ টাকা কেজি দরে ৩০ মেট্রিক টন গম সংগ্রহ করবে।

শাহজাদপুরে দুই কৃষকের জমির আধা পাকা ধান লুটের অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ভাড়াটিয়া মাস্তান দিয়ে সকিম প্রামানিক এবং ফটিক প্রামানিক নামের দুই কৃষকের ৭৮ শতাংশ জমির ধান কেটে লুট করার অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের অভিযোগ, বৈধ কাগজ না থাকলেও ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দিয়ে আব্দুল আজিজ ও তার ভাড়াটিয়া গুন্ডা সুলতান, আলামিন, সাগর, জোমের, মমিন, শাহ আলমসহ একদল সন্ত্রাসী জমির ধান কেটে নিয়েছে। তবে, অভিযুক্ত আব্দুল আজিজ জমির প্রকৃত মালিক দাবী করে জানিয়েছেন, তিনি  নিজের জমির ধান নিজেই কেটে ঘরে তুলেছেন।
ভুক্তভোগী দুই কৃষক সকিম প্রামানিক এবং ফটিক প্রামানিক জানান, উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের খারুয়াজংলা মৌজার এসএ ১৪৭৩ দাগ থেকে ৩০ শতাংশ, ১১৭৯ দাগ থেকে ১৬ শতাংশ এবং ১১৭২ দাগ থেকে ৩২ শতাংশ মিলে মোট ৭৮ শতাংশ জমি ১৯৭৮ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি দুই সন্তান সকিম এবং ফটিকের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন মা শুকুরন নেছা। এরপর থেকে দীর্ঘদিন ধরে সকিম প্রামানিক এবং ফটিক প্রামানিক দুই ভাই ভোগ দখল করে ফসল ফলিয়ে আসছে। কিন্তু হঠাৎই ঐ জমির প্রকৃত মালিক দাবী করে বসেন কায়েমপুর ইউনিয়নের বাড়াবিল গ্রামের আব্দুল আজিজ। সম্প্রতি এ নিয়ে শাহজাদপুর আইনজীবী সমিতিতে উভয় পক্ষকে নিয়ে শালিস বৈঠকও হয়েছে। সেই শালিসে কগজপত্র এবং যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে সকিম প্রামানিক এবং ফটিক প্রামানিক প্রকৃত মালিক প্রমাণিত হলেও সেই সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জোরপূর্বক জমির ধান কেটে নেয় আব্দুল আজিজ। মঙ্গলবার (১২ মে) আব্দুল আজিজ তার ভাড়াটিয়া গুন্ডা বাহিনী সুলতান, শাহ আলম, মমিন,সাগর, জোমেরসহ একদল মানুষকে নিয়ে জমির সব ধান কেটে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় শাহজাদপুর আমলি আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল আজিজ জানান, ‘আমার জমি আমি ভোগদখল করে আসছি। আমার ধান আমিই কেটে নিয়েছি।’

শাহজাদপুর থানার ওসি (তদন্ত) নাজমুল নাদের জানান, এ বিষয়ে এখনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে ক্ষোভ ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের

গরুর হাটে চুরি, ক্রেতার পকেট থেকে উধাও এক লাখ টাকা

নওগাঁর রানীনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আবাদপুকুর গরু-ছাগলের হাটে কুরবানির পশু কিনতে এসে এক লাখ টাকা খোয়ালেন এক ক্রেতা।
বুধবার (১৩ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এই চুরির ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী নুরুজ্জামান (৪২) পার্শ্ববর্তী বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার ঘোড়াঘাট এলাকার মৃত নাজমুলের ছেলে।
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কুরবানির গরু কেনার উদ্দেশ্যে সকাল ১১টার দিকে বাড়ি থেকে রওনা দেন নুরুজ্জামান। হাটে পৌঁছানোর পর ভিড়ের মধ্যে কৌশলে তাঁর প্যান্টের পকেট থেকে নগদ এক লাখ টাকা সরিয়ে নেয় সংঘবদ্ধ চোরচক্র।
ভুক্তভোগী নুরুজ্জামান জানান, “হাটে অতিরিক্ত ভিড় ও বিশৃঙ্খলার সুযোগে আমার টাকা খোয়া গেছে। হাটে কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা চোখে পড়েনি। সংশ্লিষ্টরা যদি পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করত, তাহলে এমন ঘটনা ঘটত না।”
ঘটনার পর তিনি হাট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের অবহিত করেন। তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত বা আটক করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনাটি জানাজানি হলে হাটে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা নিরাপত্তা জোরদারের দাবি তোলেন। তাঁদের অভিযোগ, প্রতি হাটবারে যেখানে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়, সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল।
স্থানীয় সচেতন মহল সতর্ক করে বলেছেন, কুরবানির পশুর হাটগুলোতে প্রশাসনের নজরদারি ও নিরাপত্তা জোরদার না করলে চুরি ও প্রতারণার ঘটনা আরও বাড়তে পারে।
রানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ জাকারিয়া মন্ডল বলেন, “হাটের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ মোতায়েন ছিল। তবে আজ অতিরিক্ত মানুষের চাপে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। চোর ধরতে আমরা কাজ শুরু করেছি এবং আগামীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল হাসান জানান, ঈদকে সামনে রেখে আগেই হাট কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে নিরাপত্তার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। বিশৃঙ্খলা এড়াতে হাটে উন্নয়নমূলক শেড নির্মাণ করা হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রানীনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোসারব হোসেন বলেন, “হাটের সাথে জড়িতদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে এবং ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সজাগ থাকতে বলা হয়েছে।”

১নং তালম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান সম্পদ

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা ঘোষণা করলেন তরুণ সমাজসেবক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান সম্পদ।
তিনি জানান, ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন, সততা প্রতিষ্ঠা এবং সাধারণ মানুষের অধিকার নিশ্চিত করাই তার রাজনীতির মূল লক্ষ্য। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছেন এবং এখন নির্বাচনের মাধ্যমে সেই সেবাকে আরও বিস্তৃত করতে চান।
মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান সম্পদ এলাকাবাসীর কাছে দোয়া, ভালোবাসা ও সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করে বলেন, “আপনাদের সমর্থন ছাড়া কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়। আমি বিশ্বাস করি, আমরা সবাই মিলে ১নং তালম ইউনিয়নকে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে পারি।”
তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই মিলে একটি সুন্দর, আধুনিক ও জনবান্ধব ইউনিয়ন গড়ে তোলাই তার লক্ষ্য। এখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অধিকার সমানভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রার্থিতা ঘোষণার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই তার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে শুভেচ্ছা ও সমর্থন প্রকাশ করেছেন। তরুণ ভোটারদের মাঝে এ নিয়ে ইতোমধ্যেই ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে।
উল্লেখ্য, ১নং তালম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেবেন। নির্বাচন ঘিরে এলাকায় এখন থেকেই প্রচারণার আমেজ শুরু হয়েছে।

রাতভর ভারি বৃষ্টিতে থমকে গেছে জনজীবন, সূর্যের দেখা মিললো দুপুরে

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে কুড়িগ্রাম জেলাসহ বাংলাদেশের বেশ কিছু জায়গায় ১২ মে থেকে ২১ মে পযর্ন্ত হতে পারে ভারি বৃষ্টি। সে তথ্য অনুপাতে কুড়িগ্রাম জেলা জুড়ে ১৩ মে রাত ১ টা থেকে নেমে আসে ভারি বৃষ্টি। যার শেষ হয় বেলা ১২.৩০ টার পর। দীর্ঘক্ষণ টানা বৃষ্টিপাতের ফলে জেলা জুড়ে দেখা দিয়েছে সাধারণ জনগণের দুর্গতি।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভাষ্যমতে গত ২৪ ঘন্টায় কুড়িগ্রামে ১৮৬ মিমি বৃষ্টিপাত হয়। যা এ বছরের সর্বচ্ছ রেকর্ড হিসাবে তালিকায় আসে।
টানা বৃষ্টিপাতের ফলে জনজীবনের বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। অব্যাহত বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে অর্থনীতি এবং কৃষিখাতে। অবিরাম বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে শহর গ্রামের রাস্তা – ঘাট এবং কৃষি জমিতে। এর ফলে চলাফেরায় কষ্ট পোহাতে হচ্ছে জনগণের। এছাড়াও কৃষি জমি গুলোতে পানি হওয়ার ফলে ব্যাহত হচ্ছে ধান কাটা এবং শোকানোর কাজে।
মুষলধারে বৃষ্টির ফলে দিন মজুরি এবং কৃষিসহ নানান সমস্যার মুখী হয়েছে কুড়িগ্রাম জেলার জনগণ। কর্ম বন্ধের পাশাপাশি শহরে বা গ্রামে পানির জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার কারণে ঘর থেকে বাহির হতে পাচ্ছে না অনেকে। এ যেন এক বন্যার পূর্বাভাস।
কিন্তু অবাক করার বিষয় রাত ১ টা থেকে বৃষ্টি হলেও তার শেষ মেলে দুপুর ১২.৩০ পর। এবং সেই সাথে সূর্যের দেখা মিলে দুপুর ২ টায়। এতেও জনসাধারণ সন্তুষ্টি নয়।
খেটে খাওয়া মানুষ এবং দিনমজুরি মানুষ গুলো বলছেন, সময় মত বৃষ্টি বন্ধ না হয়ে অসময়ে বৃষ্টি বন্ধ হয়ে রোদ উঠছে। কিন্তু কর্মে ফেরার সময় এখন নয়। বেলা শেষে কে কাজে নিবে বা কে সঠিক মূল্য দিবে? মালিক পক্ষ যে অর্থ দিবে সেটার জন্য অনেক কষ্ট করতে হবে। তাই অসময়ে বৃষ্টি থেমেও কোন সুফল হয়নি দিনমজুরি মানুষদের।

রাণীনগরে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত, কৃষি ও পুষ্টি উদ্যোক্তা উন্নয়নে নতুন অঙ্গীকার

২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে “প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ” (পার্টনার) কর্মসূচির আওতায় মঙ্গলবার রাণীনগর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এক পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে কৃষি উন্নয়ন, পুষ্টি নিরাপত্তা এবং গ্রামীণ উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি অফিসার মোসা মোস্তাকিমা আক্তার। তিনি বলেন, পার্টনার কর্মসূচি বাংলাদেশের কৃষিখাতে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। এই কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ও তথ্যসেবার সাথে সংযুক্ত করা হচ্ছে এবং গ্রামীণ নারী উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, রাণীনগর উপজেলায় এই কর্মসূচির সুফল ইতোমধ্যে কৃষকদের মধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই কার্যক্রমে অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ-৬ (রাণীনগর-আত্রাই) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলাম। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলো কৃষি, আর সেই কৃষিকে আধুনিক ও টেকসই করতে পার্টনার কর্মসূচির মতো উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। তিনি বলেন, গ্রামীণ কৃষক ও উদ্যোক্তাদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরিতে এই কর্মসূচি রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলার সাধারণ মানুষের জীবন বদলে দিতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এমপি রেজাউল ইসলাম আরও বলেন, কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে বাজার সংযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। তিনি উপস্থিত সকল কৃষক ও উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে বলেন, সরকার সবসময় তাদের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল হাসান বলেন, পার্টনার কর্মসূচি শুধু একটি প্রকল্প নয়, এটি একটি সমন্বিত উন্নয়নের দর্পণ। কৃষি, পুষ্টি ও গ্রামীণ উদ্যোক্তা — এই তিনটি মূলস্তম্ভকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই কর্মসূচি রাণীনগর উপজেলার আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, উপজেলা প্রশাসন সকল সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থার সাথে সমন্বয় করে এই কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করবে। স্থানীয় কৃষকদের আধুনিক কৃষি পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতন করতে এবং তাদের উৎপাদিত পণ্যের সুষ্ঠু বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর বলে জানান তিনি। সভাপতি সকলকে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিলা ইয়াসমিন,, সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম, থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোসারব হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নয়ন খান লুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক মেজবাউল হক লিটনসহ স্থানীয় কৃষক, উদ্যোক্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বগুড়ায় ৫ দফা দাবিতে বিড়ি শ্রমিকদের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসন আমলকে ‘বিড়ি শিল্পের স্বর্ণযুগ’ মনে করতেন শ্রমিকরা। জিয়াউর রহমান স্পষ্টভাবে বলতেন, “বিড়ি হলো গরিব মানুষের সিগারেট। যারা দিনমজুর বা রিকশাচালক, তাদের বিনোদনের উপায় খুব সীমিত। তাই বিড়ির ওপর ট্যাক্স বাড়িয়ে তাদের ওপর চাপ বাড়ানো যাবে না। সেই সময়ের মতো বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আমলে আসন্ন বাজেটে বিড়ি শিল্পের উপর শুল্ক বৃদ্ধি না করার দাবি জানিয়েছেন বগুড়া জেলা বিড়ি শ্রমিক ইউনিয়ন।

 

 

 

বুধবার (১৩ মে) বেলা ১১টায় বগুড়া কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট অফিসের সামনে পাঁচ দফা দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে এ দাবি জানান তারা।

 

শ্রমিকদের দাবি সমূহ- বিড়ির শুল্ক বৃদ্ধি না করা, বিড়ি শ্রমিকদের কর্ম দিবস বৃদ্ধি করা, নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য বৃদ্ধি করা, বিড়ি ফ্যাক্টরির লাইসেন্স থাকলেই ব্যান্ডরোল উত্তোলন বাধ্যতামূলক করা এবং নকল বিড়ি উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধ করা।

 

 

 

মানববন্ধন শেষে বগুড়া কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী কমিশনারের মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর পাঁচ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

 

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিড়ি একটি দেশীয় শ্রমনির্ভর শিল্প, যার ওপর নির্ভর করে সারাদেশের প্রায় ১৮ লাখ শ্রমিকের জীবন জীবিকা। তবে নীতিগত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও বহুজাতিক সিগারেট কোম্পানির ষড়যন্ত্রের কারণে এ শিল্প সংকটে পড়েছে। প্রকৃত রাজস্ব প্রদানকারী বিড়ি মালিকরা অসংখ্য কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছে। সুতরাং বিড়ি শিল্প ও শ্রমিকদের কর্মরক্ষার্থে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিড়ি শিল্পের উপর শুল্ক বৃদ্ধি না করার অনুরোধ করছি। একইসাথে বিড়ি শ্রমিকদের কর্মদিবস বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি।

 

 

 

বক্তারা আরও বলেন, বর্তমানে দেশের তামাক বাজারের ৮০ শতাংশ নিম্নস্তরের সিগারেট দখল করে আছে। এতে বিড়ি শিল্প টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই বিড়ি শিল্প রক্ষায় নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি। নকল বিড়ি উৎপাদন ও বিক্রিকে শিল্পের জন্য বড় হুমকি উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে এবং বৈধ উৎপাদকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ অবস্থায় নকল বিড়ির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। এছাড়াও বিড়ি ফ্যাক্টরির লাইসেন্স থাকলেই ব্যান্ডরোল উত্তোলন বাধ্যতামূলক করার দাবি জানান শ্রমিকরা।

 

 

বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হারিক হোসেনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ-সভাপতি নাজিম উদ্দিন, লুৎফর রহমান, আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল গফুর, সহ-সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসনাত লাভলু, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম ইসলাম, শ্রমিক নেতা সোহেল রানা প্রমূখ।

 

এ সময় শ্রমিকদের হাতে বিভিন্ন দাবি-সংবলিত ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড দেখা যায়, যেখানে দেশীয় শিল্প রক্ষা, বহুজাতিক কোম্পানির প্রভাব প্রতিহত করা এবং বিড়ি শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

 

 

মারা গেছেন সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী এবং চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

 

 

 

বুধবার (১৩ মে) সকাল সোয়া ১০টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮৩ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়।

 

 

 

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। কয়েক দিন ধরে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

 

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অক্টোবর মাসে তিনি গ্রেপ্তার হন। ২০২৫ সালের আগস্টে অসুস্থ হয়ে পড়লে পিজি হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং পরবর্তীকালে জামিনে মুক্ত হন। ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

 

তিনি দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছিলেন। চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

 

 

 

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের ছেলে সাবেদুর রহমান সুমু বাংলানিউজকে বলেন, বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বাদ আসর মিরসরাই উপজেলার মহাজনহাট ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। চট্টগ্রাম শহরে কোনো জানাজা অনুষ্ঠিত হবে না। ঢাকায় একটি জানাজা হবে, তবে সেটির স্থান ও সময় এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

 

 

 

 

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি মীরসরাই উপজেলার ধুম ইউনিয়নের একটি ঐতিহ্যবাহী সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মরহুম এস রহমান তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য। মা পাঞ্জেবুনেছা। পড়াশোনায় বরাবরই মেধাবী ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। ১৯৬৬ সালে তিনি লাহোর থেকে খনিজ বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। সাহসিকতার জন্য লাহোরে বাঙালি ছাত্রদের মধ্যে তুমুল জনপ্রিয় মোশাররফ ১৯৬৪ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত হন। সেখানে পড়াশোনাকালে ১৯৬৬ সালে লাহোরে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্রদের নিয়ে মোশাররফ হোসেন ছয় দফা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৭০-এর নির্বাচনে মীরসরাই আসন থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে যুদ্ধকালীন চট্টগ্রামের সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে তিনি গেরিলাযুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধে অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বপরূপ বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে বাংলাদেশ সরকার ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে।

 

 

সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না নিলে ভয়াবহ হতে পারে পরিস্থিতি

হাম পরিস্থিতির মাঝেই চোখ রাঙাচ্ছে ডিপথেরিয়া

দেশে হামের ব্যাপক সংক্রমণের মধ্যেই নতুন উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিয়েছে আরেক প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগ ডিপথেরিয়া। প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া এ রোগ এখন আবার দেশের বিভিন্ন এলাকায় শনাক্ত হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতা, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা এবং শিশুদের কমে যাওয়া রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে পরিস্থিতি বিপজ্জনক দিকে যাচ্ছে।

 

 

 

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সিলেট, হবিগঞ্জ, কামরাঙ্গীরচর, কিশোরগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডিপথেরিয়ায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। রাজধানীর একাধিক হাসপাতালেও এ রোগে আক্রান্তদের অনেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। এরই মধ্যে এ রোগে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

 

 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, চলমান হাম পরিস্থিতির মধ্যে ডিপথেরিয়ার বিস্তার শুরু হলে শিশুস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নতুন সংকট তৈরি হতে পারে। তাই সে ধরনের পরিস্থিতি যেন সৃষ্টি না হয়, সেই লক্ষ্যে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।

সংক্রমণের শুরু রোহিঙ্গা ক্যাম্পে: ডিপথেরিয়ার বড় প্রাদুর্ভাব প্রথম দেখা যায় ২০১৭ সালে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। ওই বছরের ৩ নভেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সেখানে ১৫ জনের মৃত্যুসহ ৮০৪ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়। প্রথম রোগী শনাক্ত হয় ১০ নভেম্বর, মেদসাঁ সঁ ফ্রঁতিয়ের (এমএসএফ) একটি ক্লিনিকে।

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, আক্রান্তদের ৭৩ শতাংশের বয়স ছিল ১৫ বছরের নিচে এবং এর ৬০ শতাংশই নারী। মারা যাওয়া ১৫ জনের মধ্যে ১৪ জনই ছিল শিশু। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তখনই সতর্ক করেছিল, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ঘনবসতি,অপুষ্টি ও কম টিকা গ্রহণ পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীতেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকির কথা বলা হয়েছিল।

 

 

সতর্কতার পরও কার্যকর প্রস্তুতি হয়নি: জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর আগাম সতর্কতা সত্ত্বেও দেশে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধমূলক পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি।

 

 

 

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সার্ভিল্যান্স তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সিলেট ও হবিগঞ্জে, ২২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে (আইডিএইচ) এবং ২৫ মার্চ কামরাঙ্গীরচরে ডিপথেরিয়া রোগী শনাক্ত হয়। এ ছাড়া ২০২৫ সালের ১৩ আগস্ট ও ২৪ সেপ্টেম্বর আইডিএইচে, ২৬ আগস্ট তেজগাঁওয়ের ইমপালস হাসপাতালে এবং ৮ ডিসেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী শনাক্ত হয়। ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নেওয়া রোগীটি কিশোরগঞ্জ থেকে সংক্রমিত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালেও ডিপথেরিয়ার রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন।

 

 

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি সংক্রমণের নীরব বিস্তারের ইঙ্গিত। সরকার যদি এ সময়ে নীরব থাকে, তাহলে মারাত্মক সংক্রামক এ রোগ ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে, যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।

 

 

 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ড. মুশতাক হোসেন বলেন, মূলত রোহিঙ্গা জনবসতিতে প্রথম ডিপথেরিয়া শনাক্ত হয়। পরে দেশের বিভিন্ন জেলায় রোগী পাওয়া গেছে। কয়েকজনের মৃত্যুর তথ্যও রয়েছে। হাম-পরবর্তী সময়ে শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় ডিপথেরিয়া ছড়িয়ে পড়লে দেশে করুণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

 

 

 

তিনি বলেন, জরুরি ভিত্তিতে ডিপথেরিয়া টিকার বুস্টার ডোজ চালু করতে হবে। ৬ থেকে ৮ বছর বয়সী শিশুদের লক্ষ করে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিশেষ ক্যাম্পেইন চালানো গেলে দ্রুত ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।

 

 

 

কী এই ডিপথেরিয়া: ডিপথেরিয়া বা করিনেব্যাকটেরিয়াম ডিপথেরিয়া হলো একটি গ্রাম-পজিটিভ, মুগুর-আকৃতির ব্যাকটেরিয়া. যা জীবনঘাতী সংক্রামক রোগ ডিপথেরিয়ার জন্য দায়ী। এটি অত্যন্ত সংক্রামক ও গুরুতর রোগ, যা গলা, নাক ও শ্বাসতন্ত্রকে আক্রান্ত করে। এটি টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ তৈরির মাধ্যমে গলায় একটি পুরু ধূসর আস্তরণ সৃষ্টি করে, যার ফলে শ্বাসকষ্ট, গিলতে সমস্যা এবং হার্ট বা স্নায়ুর ক্ষতি হতে পারে। এটি মূলত হাঁচি-কাশির ড্রপলেটের মাধ্যমে ছড়ায় এবং এর সর্বোত্তম প্রতিরোধ ব্যবস্থা হলো টিকাদান। ঐতিহাসিকভাবে ‘শিশুদের শ্বাসরোধকারী দেবদূত’ নামে পরিচিত এ ব্যাকটেরিয়া প্রধানত ঊর্ধ্ব শ্বাসনালিকে সংক্রমিত করে, তবে এটি ত্বকের ক্ষতও (কিউটেনিয়াস ডিপথেরিয়া) সৃষ্টি করতে পারে।

 

 

 

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, ডিপথেরিয়ার প্রধান লক্ষণ হলো গলা ব্যথা, জ্বর, ঘাড়ের গ্রন্থি ফুলে যাওয়া এবং গলায় ঘন ধূসর পর্দা বা আস্তরণ পড়া। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা ব্যবহৃত জিনিসপত্র (তোয়ালে, খেলনা) থেকে এবং সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে এ জীবাণু ছড়ায়। শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির অধীনে ডিপিটি ও পেন্টাভ্যালেন্ট টিকা প্রদান এবং হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখার মাধ্যমে এ রোগের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। টিকা না নেওয়া শিশু, জনাকীর্ণ স্থানে বসবাসকারী এবং অপুষ্টিতে ভোগা ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ডিপথেরিয়ার ঝুঁকিতে থাকেন।

 

 

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ: ডিপথেরিয়া নিয়ন্ত্রণে দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, ডিপথেরিয়া অ্যান্টিটক্সিন, অ্যান্টিবায়োটিক এবং জরুরি টিকাদান কর্মসূচির ওপর জোর দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটি বিশেষভাবে ছোট শিশু, স্বাস্থ্যকর্মী এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা মানুষকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়ার সুপারিশ করেছে।

 

 

 

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, ডিপথেরিয়ার একটি ভয়াবহ সংক্রামক রোগ। আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ডিপথেরিয়া অ্যান্টিটক্সিন সেরাম এবং বেনজাইল পেনিসিলিনের মতো ওষুধগুলো এখন বিরল। ফলে হাসপাতালে ডিপথেরিয়া রোগী এলে তাদের সুস্থতা দান করা কঠিন হয়ে পড়বে। তা ছাড়া হাসপাতালে সাধারণ রোগীদের চাপে হামের রোগীদের জায়গা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এমন সময় ডিপথেরিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে চিকিৎসার ক্ষেত্রে জটিলতার সৃষ্টি হবে। তিনি বলেন, এখনই সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে হামের পর বাংলাদেশ নতুন আরেকটি সংক্রামক সংকটের মুখোমুখি হতে পারে।

 

 

 

যা বললেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: সামগ্রিক বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ডিপথেরিয়ার বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত, করণীয় নিয়ে আমরা ভাবছি।

 

 

 

সুত্র: “দৈনিক কালবেলা”

 

 

 

স্কুলের সেফটি ট্যাংকের দুর্গন্ধে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেফটি ট্যাংকে মরা মুরগি ফেলার ঘটনায় তীব্র দুর্গন্ধে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান।
এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। দুর্গন্ধের কারণে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে গিয়ে ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে অবস্থিত টয়লেটের সেফটি ট্যাংকের ঢাকনা ভেঙে সেখানে দুর্বৃত্তরা মরা মুরগি ফেলে রাখে। এরপর থেকেই পুরো স্কুলজুড়ে অসহনীয় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. সেহেলী খাতুন রায়গঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্গন্ধের কারণে শ্রেণিকক্ষে স্বাভাবিক পরিবেশে পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে চলমান পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী নাকে রুমাল চেপে পরীক্ষা দিচ্ছে। তারপরও দুর্গন্ধে মাথা ঘোরা ও বমির মতো সমস্যায় পড়ছে তারা।
বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, “দরজা-জানালা বন্ধ করেও দুর্গন্ধ থেকে রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না। ক্লাস করতে খুব কষ্ট হচ্ছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের আশপাশে অন্তত ৬ থেকে ৭টি মুরগির খামার রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, খামারের কোনো অসাধু ব্যক্তি মৃত মুরগিগুলো সেফটি ট্যাংকে ফেলে থাকতে পারে।
এ বিষয়ে অভিভাবক আখি খাতুন ও সিদ্দিক প্রামাণিক বলেন, “দুর্গন্ধের কারণে সন্তানরা স্কুলে যেতে চায় না। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. সেহেলী খাতুন বলেন, “থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। মরা মুরগির দুর্গন্ধে বিদ্যালয়ে অবস্থান করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি হাবিবুর রহমান খান বলেন, “প্রশাসন যদি দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে কেউ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট করার সাহস পাবে না।”
অভিযোগের বিষয়ে রায়গঞ্জ থানার এসআই শাহীন আলম মুঠোফোনে জানান, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

রায়গঞ্জে মহাসড়কের পাশে অবৈধ পাথর ডিপো, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ঘুড়কা বাজার এলাকায় মহাসড়কের পাশে গড়ে উঠেছে অবৈধ পাথর বাণিজ্যের একাধিক অস্থায়ী ডিপো। ঘুড়কা পাপিয়া হোটেলসংলগ্ন এলাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে পাথর মজুত ও বিক্রির কার্যক্রম চলায় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের জায়গা দখল করে চন্দন সরকার, তরুণ রায়, নিতীশ কুমার সরকার ও আব্দুল লতিফ হোসেনসহ কয়েকজন ব্যক্তি এ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। উত্তরাঞ্চল থেকে ট্রাকে করে আনা পাথর রাস্তার পাশেই খোলা জায়গায় স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। পরে সেখান থেকেই খুচরা ও পাইকারি দরে বিক্রি করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাটিকুমরুল মহাসড়কের ঘুড়কা পাপিয়া হোটেল এলাকায় রাস্তার ধারে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে পাথরের স্তূপ। কোথাও কোথাও মহাসড়কের একাংশ দখল করে দাঁড়িয়ে আছে পাথরবাহী ট্রাক। এতে সড়কে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে এবং বাড়ছে যানজট।
স্থানীয় মিশুকচালক আতিকুল ইসলাম ও লতিফ জানান, মহাসড়কের পাশে ট্রাক দাঁড় করিয়ে পাথর ওঠানামার কারণে রাস্তা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। সামান্য অসাবধানতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়া ধুলাবালুর কারণে পরিবেশ দূষণও বাড়ছে।
একাধিক পরিবহন চালক অভিযোগ করে বলেন, রাতে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাক ও পাথরের স্তূপের কারণে গাড়ি চালাতে চরম ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়। অন্ধকারে অনেক সময় সামনে কী রয়েছে তা বোঝা যায় না।
সচেতন মহলের দাবি, অনুমোদন ছাড়াই মহাসড়কের পাশে এভাবে পাথর মজুত ও বিক্রি সম্পূর্ণ বেআইনি। প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির অভাবে সংশ্লিষ্টরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন।
এ বিষয়ে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, “মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে পাথর মজুত ও বিক্রির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লাপাড়ায় পুকুর খননের সময় উদ্ধার কষ্টিপাথরের প্রাচীন দুর্গা মূর্তি

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় শত বছরের পুরানো একটি পুকুর খননের সময় কষ্টিপাথরের তৈরি একটি দুর্গা মূর্তি উদ্ধার হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে উপজেলার বাঙালা ইউনিয়নের চেংটিয়া বড় আইন্দা পুকুরে খননকাজ চলাকালে শ্রমিকরা মূর্তিটি দেখতে পেয়ে উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেন। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে শত শত মানুষের ভিড় জমে।
পুকুরের মালিক রুহুল আমীন জানান, প্রায় ১৬ বিঘা আয়তনের এই প্রাচীন পুকুর থেকে এর আগেও কষ্টিপাথরের একটি বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার হয়েছিল। এবার একই পুকুর থেকে দুর্গা মূর্তি পাওয়া গেল।
উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম বলেন, শত বছরের পুরানো পুকুরে কষ্টিপাথরের একটি দুর্গা মূর্তি পাওয়া গেছে। মূর্তিটির ওজন আনুমানিক ৪০ কেজি হতে পারে। বিষয়টি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে মূর্তিটি তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ঈদ উপলক্ষে ২৩ মে’র ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু আজ

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বুধবার (১৩ মে) থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। অবৈধ টিকিট বিক্রি রোধে শতভাগ আসনের টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হবে।

 

 

 

বুধবার (১৩) সকাল ৮টায় বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর আসনের টিকিট বিক্রি শুরু হয়। আর দুপুর ২টায় পূর্বাঞ্চলে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর আসনের টিকিট বিক্রি শুরু হবে।

 

 

 

রেলওয়ে জানিয়েছে, যাত্রীরা শুধু বাংলাদেশ রেলওয়ের অনলাইন ওয়েবসাইট এবং ‘রেল সেবা’ অ্যাপ ব্যবহার করে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।

 

ঈদ উপলক্ষে রেলওয়ের নেওয়া কর্মপরিকল্পনা থেকে জানা গেছে, ঈদের আগে পাঁচ দিনের ট্রেনের আসনের টিকিট বিশেষ ব্যবস্থায় অগ্রিম বিক্রি করা হবে। আন্তঃনগর ট্রেনের ২৪ মে’র আসনের টিকিট বিক্রি হবে ১৪ মে, ২৫ মে’র আসনের টিকিট বিক্রি হবে ১৫ মে, ২৬ মে’র আসনের টিকিট বিক্রি হবে ১৬ মে এবং ২৭ মে’র আসনের টিকিট বিক্রি হবে ১৭ মে।

 

রেলওয়ের সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, একজন যাত্রী ঈদ অগ্রিম যাত্রার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ একবার টিকিট কিনতে পারবেন এবং প্রতি ক্ষেত্রে সর্বাধিক চারটি টিকিট ক্রয় করতে পারবেন। ঈদ অগ্রিম যাত্রার টিকিট রিফান্ড করা যাবে না।

 

 

যাত্রীদের অনুরোধে যাত্রার দিন মোট আসনের (উচ্চ শ্রেণি ব্যতীত) ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট স্টেশন কাউন্টার থেকে বিক্রি করা হবে।

 

 

 

এদিকে, ঈদের চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ২৮, ২৯ ও ৩০ মে তারিখের টিকিট বিক্রি করা হবে।

 

 

 

সাদিক কায়েমের বিয়ের দাওয়াত পেলেন স্পিকার

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। এসময় তিনি স্পিকারকে তার বিয়ের আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেন।

 

 

 

মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে সাদিক কায়েমের ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়।

 

 

 

ওই পোস্টে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম।

এসময় তিনি স্পিকারকে তার বিয়ের আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেন। স্পিকার জীবনের নতুন অধ্যায়ের জন্য শুভকামনা ও দোয়া জানিয়েছেন। পাশাপাশি ডাকসুর বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। আগামীর বাংলাদেশের রোল মডেলে উন্নীত হোক ডাকসু এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

 

 

 

সোনাইমুড়ীতে ইয়াবাসহ তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি আটক

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবা, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোনসহ এক তালিকাভুক্ত মাদক কারবারিকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) নোয়াখালী জেলা কার্যালয়।

মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সোনাইমুড়ী থানাধীন জয়াগ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের যোগিখিল পাড়া উলুপাড়ায় আব্দুর রহমান ঠিকাদার বাড়ি এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে যোগিখিল পাড়ার বাসিন্দা ছালে আহম্মেদ প্রকাশ খোকন (৪২)-এর নিজ বসতঘরে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৫২ পিস মিথাইল অ্যাম্ফিটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেট, মাদক বিক্রির ১ হাজার ৭০০ টাকা নগদ অর্থ এবং মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত একটি সিমযুক্ত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

আটক ছালে আহম্মেদ প্রকাশ খোকন উপজেলার জয়াগ ইউনিয়নের যোগিখিল পাড়া এলাকার মৃত আজিজুল হকের ছেলে।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে সোনাইমুড়ী থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।

এ বিষয়ে নোয়াখালী জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ জানান, মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

2 thoughts on “সরকারি খাদ্যশস্য বিক্রির সময় ধরা পড়লেন ব্যবসায়ী

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি খাদ্যশস্য বিক্রির সময় ধরা পড়লেন ব্যবসায়ী

আপডেট টাইম : ০৮:৫৬:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

মাগুরার মহম্মদপুরে দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ৪৩৪ কেজি চাল নিয়ে যাওয়ার সময় একটি ইজিবাইক আটক করেছে স্থানীয় জনতা।

 

 

 

বুধবার (১৩ মে) দুপুরে উপজেলার হাটবাড়িয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

 

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাগড়া বাজারের ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ বা টিসিবির ডিলার বাবু এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রফিকুল ইসলাম বাবু উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণের পরিবর্তে সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত চাল গোপনে বিক্রি করে দেন। পরে চালগুলো ইজিবাইকে করে অন্যত্র নেওয়ার সময় হাটবাড়িয়া বাজার এলাকায় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা ইজিবাইকটি আটক করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চাল জব্দ করে।

চাল ক্রেতা মাগুরার বাহারবাগ এলাকার মো. ফারুক বিশ্বাস জানান, তিনি বস্তা কিনতে বাজারে এসেছিলেন। এ সময় তাকে চাল কেনার প্রস্তাব দেওয়া হলে তিনি ৩০ টাকা কেজি দরে চাল কিনেন। তবে, এটি টিসিবির সরকারি চাল ছিল বলে তিনি জানতেন না।

অভিযুক্ত ডিলার রফিকুল ইসলাম বাবু চাল বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমি আমার গত মাসের জমাকৃত চাল বিক্রি করেছি। সরকারি চাল বাইরে বিক্রি করার নিয়ম আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেকেই চাল নিতে চান না, সে কারণেই চাল বিক্রি করেছি।

মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, আজ দুপুরে আমরা মহম্মদপুর এর নাগড়া এলাকায় কিছু চাল জব্দ করি। সাথে সাথে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানায়। ঘটনার জনগুরুত্ব বিবেচনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।

 

 

সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রেস ব্রিফিং

সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে অগ্রাধিকারমূলক কার্যক্রম সম্পর্কে ঠাকুরগাঁওয়ে এক প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে এ প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিস।
প্রেস ব্রিফিংয়ে সভাপতিত্ব করেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক। এ সময় তিনি সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষ রোপণ, নারীর জন্য গাড়ি, কৃষক কার্ড এবং কৃষি ঋণ মওকুফসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের সুফল নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এসময় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম, নির্বাচনি ইশতেহারের বাস্তবায়ন অগ্রগতি এবং জনসেবামূলক উদ্যোগ নিয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করা হয়।
সভায় সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করা হয় এবং জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রশংসা করা হয়।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নাজমুল হক সুমন, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাজেদুর ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোদাদাদ হোসেন, জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মামুন বিশ্বাস, ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাবের সভাপতি লুৎফর রহমান মিঠু, জেলা তথ্য অফিসার এইচ. এম. শাহজাহান মিয়াসহ অন্যান্যরা।

সময় টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে সমন জারি

 

বেসরকারি গণমাধ্যম সময় টেলিভিশনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) আহমেদ জোবায়েরসহ ছয়জনকে ১৭ জুন হাজির হতে সমন জারি করেছেন আদালত। প্রতারণা, বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এ সমন জারি করা হয়।

 

 

 

বুধবার (১৩ মে) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ইসরাত জাহান এ আদেশ দেন।

 

 

 

সমন জারি করা আসামিরা হলেন- সময় টিভির এমডি আহমেদ জোবায়ের, শামীমা সুলতানা চৌধুরী, নাওয়ার জয়ীতা, আহমেদ রাফিদ কাদের ঋভু, শেখ মাহমুদ ইয়াসিন ও মো. সানী চৌধুরী।

আদেশে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় অপরাধের অভিযোগের বিষয়ে জবাব দিতে আসামিদের আগামী ১৭ মে সশরীরে অথবা আইনজীবীর মাধ্যমে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

 

নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকেছে পাহাড়ি ঢলে

ভারত সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় থেকে নেমে আসা আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নদীর বাঁধ ভেঙে ও উপচে পড়া পানিতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে বোরো ধানসহ বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

 

 

 

বুধবার (১৩ মে) সকাল থেকে ঢলের পানি দ্রুত লোকালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার গাজীরভিটা ইউনিয়ন।

 

 

 

স্থানীয়রা জানান, মেনংচরি ও বোরাঘাট নদীর পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়ে বাঁধ উপচে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এতে কালিয়ানি কান্দা, বোয়ালমারা, ভুবনকুড়া ও গাজীরভিটাসহ অন্তত ছয়টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া পৌর শহরের নিম্নাঞ্চলেও পানি প্রবেশ করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মঙ্গলবার রাত থেকে একটানা ভারী বৃষ্টি হচ্ছিল। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদ-নদীর পানিও দ্রুত বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে নদীর বাঁধ উপচে এবং ভাঙা অংশ দিয়ে ঢলের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। সকালে ঘুম থেকে উঠে অনেকেই দেখেন বাড়ির উঠান ও ঘরে পানি ঢুকে গেছে। পরে তারা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন।

হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে কালিয়ানি কান্দা ও বোয়ালমারা এলাকায় পানিপ্রবাহ বেশি হওয়ায় অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন। শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী।

কৃষকরাও চরম দুশ্চিন্তায় সময় পার করছেন। তারা বলছেন, চলতি মৌসুমে ভালো ফলনের আশা করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ পাহাড়ি ঢলে জমির পাকা ধান ও অন্যান্য ফসল তলিয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। দ্রুত ভাঙা বাঁধ মেরামত এবং ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে। একই সঙ্গে পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

 

 

 

স্থানীয় বাসিন্দা আ. রশিদ বলেন, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বোরাঘাট নদীসহ আশপাশের নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। একপর্যায়ে বাঁধ উপচে ও ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এতে নিম্নাঞ্চলের বাড়িঘর ও ফসলের খেতে পানি উঠে যায়। অনেক পরিবারের ঘরে পানি ওঠায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

 

 

 

আরেক বাসিন্দা রেজাউল আলম বলেন, গত কয়েক ঘণ্টার টানা ঢলে পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় অনেক পরিবার নিরাপদ স্থানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

 

 

 

হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ জানান, গাজীরভিটা ও ভুবনকুড়া এলাকার দুটি পয়েন্ট দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে এবং দুটি কাঁচা রাস্তা ভেঙে গেছে।

 

 

 

তিনি বলেন, পাহাড়ি ঢলের পানির গতি ও প্রবাহ আমরা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছি। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 

 

 

এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করলেও এখনো সরকারিভাবে ত্রাণ তৎপরতা শুরু হয়নি। দ্রুত ভাঙা বাঁধ মেরামত এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

 

উকুন মারার তেলের তীব্র গন্ধে স্কুলের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ

 

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের মুলাডুলি উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালীন অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শ্রেণিকক্ষে উকুন মারা বিষের বোতল ভেঙে বিষক্রিয়ার ঘটনায় তারা অসুস্থ হতে পারে।

 

 

 

বুধবার (১৩ মে) দুপুরের পর বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

 

 

 

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, প্রথমে কয়েকজন শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে ধীরে ধীরে আরও শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হতে শুরু করে। একপর্যায়ে বিভিন্ন শ্রেণির প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে।

ঘটনার পরপরই বিষয়টি শিক্ষার্থীদের অভিভাবক, ঈশ্বরদী থানা পুলিশ, উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকর্মীরা অসুস্থ শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। এ ছাড়াও অনেক অভিভাবক নিজ উদ্যোগে তাদের সন্তানদের বিভিন্ন যানবাহনে করে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।

ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল এবং ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব।

 

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মোহাম্মাদ শোয়াইব জানান, দুপুরের দিকে বিদ‍্যালয়ের একটি কক্ষে একটি বিষের বোতল ভেঙে গেলে প্রথমে দুই জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে, দেখে আতঙ্ক ও বিষের তীব্র গন্ধে একে একে প্রায় ৪০/৫০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে ।বর্তমানে অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে।আস্তে আস্তে অনেক শিক্ষার্থী সুস্থ হচ্ছেন ।

 

 

 

চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিষক্রিয়ার কারণে ৪০/৫০ জন শিক্ষার্থী হাসপাতালে আসে। এ ছাড়া আতঙ্ক ও প্যানিক অ্যাটাকের কারণেও কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে সবাই শঙ্কামুক্ত রয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী সুস্থ বোধ করায় অভিভাবকরা তাদের বাড়ি নিয়ে গেছেন।

 

 

 

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুর রহমান জানান, হাসপাতাল থেকে জানানো হয়েছে কেউ অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল, আবার কেউ শ্বাসকষ্টে ভুগছিল। বর্তমানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া।

 

 

পশুর হাটে এবার চমক ‘সুলতান’ নামের উট

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার লক্ষ্মীপুর এলাকায় একটি এগ্রো ফার্মে এবার কোরবানির পশুর হাটে যোগ হয়েছে ভিন্ন এক আকর্ষণ, বিশাল আকৃতির উট ‘সুলতান’।

 

 

 

প্রায় দুই মাস আগে রাজস্থান থেকে আনা এই উটটি খামারি ব্যবসায়ী জুয়েল আহমেদের উদ্যোগে বর্তমানে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ব্যতিক্রমী এই সংযোজন ইতোমধ্যেই কুমিল্লাজুড়ে সৃষ্টি করেছে ব্যাপক কৌতূহল।

 

 

 

প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন উট ‘সুলতান’কে একনজর দেখতে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে উৎসাহ ও আগ্রহ।

উটের দেখভালকারী শ্রমিকরা জানান, গরুর তুলনায় উট পালন সহজ। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, উট সাধারণত গরুর মতোই খাবার খায় এবং এর পরিচর্যায়ও কম কষ্ট হয়।

 

খামারি ব্যবসায়ী জুয়েল আহমেদ বলেন, ভিন্ন কিছু করার চিন্তা থেকেই রাজস্থান থেকে উটটি আনা হয়েছে। ভবিষ্যতে উট পালন দেশে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে বলে বিশ্বাস করি।

 

 

স্থানীয়দের মতে, কুমিল্লার পশুর হাটে এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন আগে খুব কমই দেখা গেছে। ফলে ‘সুলতান’ এখন হাটের অন্যতম প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।

 

সান মারিনো ম্যাচে বাংলাদেশ দলে থাকছে বড় চমক

আগামী জুনে সান মারিনোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। সেই ম্যাচকে সামনে রেখে খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তাদের ভিসা প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। আজ বুধবার ভিসার জন্য আবেদন করা ফুটবলারদের মধ্যে ছিলেন গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকো, যা তার জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে।

 

 

 

এক সময় জাতীয় দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য গোলকিপার ছিলেন জিকো। ২০২৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে তিনি টুর্নামেন্টসেরা গোলকিপারের স্বীকৃতি পান। তবে শৃঙ্খলাজনিত কিছু ইস্যু এবং সাবেক কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়ায় জাতীয় দলে অনিয়মিত হয়ে পড়েন তিনি।

 

 

 

চলতি মৌসুমে বসুন্ধরা কিংসর হয়ে ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্স করলেও প্রথমে সান মারিনো সফরের পরিকল্পনায় ছিলেন না জিকো। তাকে রাখা হয়েছিল মালদ্বীপে অনুষ্ঠিতব্য চার জাতি টুর্নামেন্টের দলে। তবে শেষ পর্যন্ত বাফুফে সান মারিনো সফরের জন্যও তার ভিসা করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অধিনায়ক জামাল ভূইয়া, হামজা চৌধুরি ও শমিত সোমের বিদেশি পাসপোর্ট থাকায় তাদের আলাদা ভিসার প্রয়োজন হচ্ছে না। অন্যদিকে তপু বর্মণ, রাকিব হোসেন, মিতুল মারমা, শেখ মোরসালিনসহ আরও কয়েকজন ফুটবলার ভিসার জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়েছেন।

নতুন কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান থাকায় আপাতত স্থানীয় কোচদের তত্ত্বাবধানে দুটি দলের প্রস্তুতি চলছে। সান মারিনো সফরের চূড়ান্ত দল শিগগিরই ঘোষণা করবে বাফুফে।

 

দুইদিনের সফরে সিরাজগঞ্জে আসছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু

 

দুইদিনের সরকারি সফরে সিরাজগঞ্জে আসছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

 

 

 

বুধবার (১৩ মে) মন্ত্রীর একান্ত সচিব (উপসচিব) মিয়া মোহাম্মদ কেয়াম উদ্দিন স্বাক্ষরিত সফরসূচিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

 

 

ওই সফরসূচিতে উল্লেখ করা হয়েছে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জে নিজ বাসভবনে এসে পৌঁছবেন। শুক্রবার (১৫ মে) সকাল ১০টায় শহীদ শামসুদ্দিন স্টেডিয়ামে আয়োজিত প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ টুর্ণামেন্ট-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগদান করবেন। এদিন সকাল ১১টায় সিরাজগঞ্জ কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজে অভিভাবক সমাবেশ ও গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

 

 

 

 

দুপুরে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় ও মসজিদ অজুখানার দ্বিতীয় তলা নির্মাণকাজের উদ্বোধন ও সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় দলীয় কার্যালয়ে জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

 

 

 

শনিবার (১৬ মে) সকাল ১০টায় মুক্তির সোপান এলাকায় বৈচিত্রের ঐক্য ও সংস্কৃতির মিলনমেলার বর্ণাঢ্য র‌্যালীর উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। সকাল ১১টায় সদর উপজেলা অডিটোরিয়াম উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়, বেলা আড়াইটায় কাওয়াকোলা ইউনিয়নের উপকারভোগীদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। এইদিন সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে সিরাজগঞ্জ ত্যাগ করবেন।

 

 

বিতর্কের মুখে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ সিনেমার সেন্সর বাতিল

 

অবশেষে বিতর্কিত সিনেমা ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারজ’র সেন্সর বাতিল হলো। সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন অভিনেতা ও নির্মাতা হাসান জাহাঙ্গীর। সেন্সর সনদ হাতে পেয়ে ১৫ মে প্রেক্ষাগৃহে এটি মুক্তির ঘোষণা দিয়েছিলেন নির্মাতা। সে লক্ষ্যেই পোস্টার ও ট্রেলারও প্রকাশ করা হয়। যেখানে দেখা যায় চিত্রনায়িকা মৌসুমীকে। আর তাতেই বাধে বিপত্তি। অভিযোগ তুলেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী।

 

 

 

তিনি জানান, এ ধরনের কোনো সিনেমায় তিনি অভিনয় করেননি। বিষয়টি নিয়ে এক ফেসবুক লাইভে নায়িকার স্বামী ওমর সানীও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এমনকি সিনেমাটির মুক্তি স্থগিত করার দাবিও তুলেন। শুধু মৌসুমী নয়, অভিযোগ করেন ছোট পর্দার আরেক অভিনেত্রী জেবা জান্নাত।

 

 

 

তার দাবি, নাটকের কথা বলে অভিনয় করিয়ে সেসব দৃশ্য সিনেমার ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি তার অনুমতি ব্যতীত পোস্টারে ছবিও ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জেবা জান্নাত নাটক ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনে লিখিত অভিযোগও জানান। এমনকি সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশনও দায়ের করেন।

অবশেষে জেবা জান্নাতের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সিনেমার সেন্সর বাতিল হলো। অভিনেত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা রহমান তানি। তিনি জানান, সিনেমার একজন সহঅভিনেত্রীর অভিযোগই ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’-এর সেন্সর বাতিল করা হয়েছে।

মাসুমা রহমান তানি বলেন, ‘আমরা চলচ্চিত্রটির সেন্সর দিয়েছিলাম। তখন এটির বিরুদ্ধে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। এরপর বিষয়টি নিয়ে জেবা জান্নাত নামে প্রজেক্টের সঙ্গে যুক্ত একজন লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে জেবা ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ একটি নাটক বলে তার সঙ্গে চুক্তি করা হয় বলে জানান।

 

 

পরে সিনেমা হিসেবে মুক্তি দেওয়ার পরকিল্পনা করলে তিনি আমাদের কাছে অভিযোগ করেন। তার সঙ্গে নাটকের চুক্তি হয়েছে, সিনেমার বিষয়ে কোনো চুক্তি হয়নি। সে জন্যই আমরা এর মুক্তির অনুমতি বাতিল করেছি।’

 

 

 

এদিকে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী। সেখানেই হাসান জাহাঙ্গীরের সঙ্গে একটি নাটকে কাজ করেছিলেন তিনি।

 

 

 

এ সিনেমা প্রসঙ্গে মৌসুমী এক অডিও বার্তায় বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে এসে একটি মেয়ের স্ট্রাগল টাইমের ছোট গল্প নিয়ে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নির্মাণের কথা ছিল। হাসান জাহাঙ্গীর আমাকে অনেক অনুরোধ করার পর আমি রাজি হয়েছি। শুরুতে এটা এক ঘণ্টার একটি নাটক ছিল। দুই দিনে শুটিং শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তিন দিন লেগে যায়।

 

 

 

কিছুদিন পর নির্মাতা এসে বলেন, এটার শুটিং তো বেশি হয়েছে, আমরা টেলিফিল্ম হিসেবে প্রচার করতে চাই। তাতেও আমি রাজি হয়ে কাজটি শেষ করেছি। কিন্তু খবরে দেখছি, ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নাকি সিনেমা হিসেবে আসছে। বিষয়টি শুনে অবাক হয়েছি।’

 

 

 

এদিকে সেন্সর বাতিলের বিষয়টি জানতে পরিচালক হাসান জাহাঙ্গীরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সাড়া দেননি।

 

 

পরিত্যক্ত রেল লেনকে সড়কপথে রূপ দিচ্ছে যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ

যমুনা সেতুর পরিত্যক্ত রেল লেনকে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করতে এবং সেতুর মূল অবকাঠামোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় ধরনের সংস্কার কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সেতুর ডেক সংস্কার, প্রশস্তকরণ ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ এবং চীনের সিসিসিসি-সিআরবিসি জেভি’র মধ্যে এক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

 

 

 

বুধবার (১৩ মে) সেতু কর্তৃপক্ষের সম্মেলন কক্ষে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

 

 

 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) ও অতিরিক্ত সচিব আলতাফ হোসেন সেখ।

সেতু কর্তৃপক্ষের পক্ষে প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. ফেরদাউস এবং সিসিসিসি-সিআরবিসি জেভি’র পক্ষে ওয়াং বিনকোয়িং চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এসময় সেতু বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে আলতাফ হোসেন সেখ বলেন, ‘দ্রুততম সময়ের মধ্যে গুণগত মান বজায় রেখে এই সংস্কার কাজ শেষ করার নির্দেশনা রয়েছে। দেশের উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের সাথে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম যমুনা সেতুর আধুনিকায়ন ও দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে এই প্রকল্প একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।’

তিনি আরও জানান, যমুনা সেতুতে যাতায়াতের রাস্তা বর্তমানে ৩.৫ মিটার প্রশস্ত করা হবে। বিশেষ করে রেল সংযোগ পৃথক হওয়ার পর থেকে অব্যবহৃত থাকা রেল লেনটিকে সংস্কার করে সাধারণ যান চলাচলের উপযোগী করা হবে। এতে সেতুর ওপর যানবাহনের ধারণক্ষমতা বাড়বে এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে মূল কাঠামোর সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

 

 

 

এই সংস্কার কাজ শেষ হলে উত্তরাঞ্চলের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও নির্বিঘ্ন হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে।

 

 

 

এছাড়াও, অনুষ্ঠানে সেতু বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং সিসিসিসি-সিআরবিসি জেভি’র উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

বাফুফের পরিকল্পনায় নতুন মোড়, কোচের পদত্যাগে ইঙ্গিত

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ কে হবেন, এ নিয়ে জল্পনাকল্পনার শেষ নেই। তবে হুট করেই দৃশ্যপটে এল নতুন মোড়। গায়ানা জাতীয় দলের কোচের পদ থেকে আকস্মিক পদত্যাগ করেছেন বাফুফের সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা টমাস ডুলি। এই পদত্যাগ ঘিরেই জোরালো গুঞ্জন শুরু হয়েছে—তবে কি হাভিয়ের কাবরেরার উত্তরসূরি হিসেবে বাংলাদেশের ডাগআউটে দেখা যাবে এই হাই-প্রোফাইল জার্মান-মার্কিন কোচকে?

 

 

 

​বাফুফে এরই মধ্যে নতুন কোচের জন্য ১১ জনের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা (শর্টলিস্ট) চূড়ান্ত করেছে এবং আগামী ১৫ মে নতুন কোচের নাম ঘোষণা করার কথা রয়েছে। ঠিক তিন দিন আগে ১২ মে ডুলির পদত্যাগ করার বিষয়টি কোনো সাধারণ কাকতালীয় ঘটনা হতে পারে না। ৯ মাস গায়ানার দায়িত্বে থেকে অপরাজিত রেকর্ড গড়ার পরও ‘নতুন চ্যালেঞ্জ’ গ্রহণের কারণ দেখিয়ে তার বিদায় নেওয়া ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বাংলাদেশের প্রস্তাবটি হয়তো তাঁর কাছে এখন অনেক বেশি বাস্তবসম্মত।

 

 

 

৬৪ বছর বয়সী ডুলি খেলোয়াড় হিসেবে যেমন বুন্দেসলিগা ও উয়েফা কাপ জয়ী। কোচ হিসেবেও তার প্রোফাইল বেশ ভারী। ছিলেন জার্মান কিংবদন্তি ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমানের সহকারীও। বিশেষ করে ফিলিপাইন জাতীয় দলকে সাফল্য এনে দেওয়া এবং প্রথমবার এশিয়ান কাপের মূল পর্বে কোয়ালিফাই করানোর অভিজ্ঞতা তাকে বাফুফের তালিকার শীর্ষে রাখার বড় কারণ হতে পারে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন বর্তমানে এমন একজন অভিজ্ঞ কোচ খুঁজছে যিনি এশিয়ান ফুটবল সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখেন।

​তবে ডুলির কোচিং ক্যারিয়ারে শৃঙ্খলার বিষয়টি যেমন প্রশংসিত, তেমনি গায়ানায় স্থানীয় খেলোয়াড়দের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব কিছুটা বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছিল। বাফুফের শর্টলিস্টে থাকা অন্য ১০ জন প্রার্থীর নাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা না হলেও, ডুলির পদত্যাগের পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন শুধুই তিনি।

টমাস ডুলিই কি তবে বাংলাদেশের পরবর্তী হেড কোচ হতে যাচ্ছেন? নাকি শেষ মুহূর্তে আসবে অন্য কোনো চমক। বাফুফের টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম হিলটন বলেছেন, ‘টমাস ডুলি আমাদের সংক্ষিপ্ত তালিকায় আছেন। এখন কোচ নিয়োগের বিষয়টি পুরোপুরি সভাপতি নিজেই দেখছেন। তিনি ১৫ মে ঘোষণা দেবেন বলে জানি।’

 

গাঁজাসেবন ছাড়া নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারী হওয়া যায় না: রাশেদ খাঁন

 

‘গাঁজাসেবন না করলে নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারী হওয়া যায় না’—বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান বিএনপি নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন। এছাড়াও ‘একজন লোক শিবির থেকে বাম হয় কীভাবে’—এমন প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

 

 

 

বুধবার (১৩ মে) সকাল ৯টা ৪৩ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া স্ট্যাটাসে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

 

 

 

রাশেদ খাঁন লিখেন, ‘গাঁজাসেবন না করলে নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী হওয়া যায় না। অতীতে সে জামায়াতে ইসলামীকে গালিগালাজ করেছে। এখন জামায়াতের সাথে মিতালি করে বিএনপিকে গালিগালাজ করছে।

তিনি লিখেন, ‘নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী জামায়াতে ইসলামীকে বলেছে, (১) জামায়াতে ইসলামী ভারতের এক্সটেনশন, (২) সংস্কারের নামে ভণ্ডামি করছে, (৩) মুনাফেকের দল, (৪) ধর্মের নামে চেতনার ব্যবসা করছে, (৫) জামায়াতের মুখে এক অন্তরে আরেক, (৬) জামায়াতের রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। তাদের রাজনৈতিক দর্শন ও অতীত আচরণ বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মানচিত্র ও জাতীয় চেতনার পরিপন্থী ইত্যাদি!’

 

একটা দল সম্পর্কে এতকিছু বলার পরে আবার সেই দল থেকে নির্বাচন করা একমাত্র ‘গাঁজাসেবন’ করলেই সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক লিখেন, ‘আমি এনসিপিকে বলবো, দ্রুত তার ডোপ টেস্ট ও চিকিৎসা করুন। অন্যথায় তার শরীরে প্রতিদিন যে পরিমাণ নিকোটিন ঢুকছে, আর এর প্রতিক্রিয়ায় আবোলতাবোল বকছে.. না জানি আবার জামায়াতে যোগদান করে এনসিপিকে নিয়ে কি বলা শুরু করে যে, এনসিপি জাতির সাথে গাদ্দারি করা শুরু করেছে…! জামায়াতে ইসলামী পারেও বটে!’

 

 

রাশেদ খাঁন আরও বলেন, ‘তাদের রাজনীতিকে নিয়ে একেরপর এক প্রশ্ন তোলা নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীই আজকাল তাদের আইডল। কারণ সে এখন রুপ বদলে ফেলে জামায়াতপন্থী হয়েছে! পডকাস্টে বলেও বেড়াচ্ছে, সে নাকি শিবিরের সাথী ছিলো! অথচ ক্যাম্পাসে দেখেছি, সে বাম করে….! একজন লোক শিবির থেকে বাম হয় কিভাবে?’

 

 

হামে শিশু মৃত্যু: ড. ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টার বিচার দাবি

 

‎হামে শিশু মৃত্যুর জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমসহ দোষীদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে আইনজীবীরা।

 

 

 

বুধবার (১৩ মে) বিকেলে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ আইনজীবী ব্যানারে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

 

বিক্ষোভ সমাবেশে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের একাংশ এতে অংশগ্রহণ করেন। এসময় আওয়ামীপন্থী আইনজীবী মো. কায়েস আহমেদ অর্নব, সিফাত আমিনুল করিম, গোলাম রাব্বানি, রাসেল আহমেদ, ফারজানা ইয়াসমিন রাখিসহ শতাধিক আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।

 

এসময় আইনজীবীরা সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিচার দাবি করেন।

 

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ইউনিসেফের পক্ষ থেকে সতর্ক করা সত্ত্বেও অন্তর্বর্তী সরকার টিকার প্রচলিত সংগ্রহ পদ্ধতি পরিবর্তন করে ‘উন্মুক্ত দরপত্র’ (ওপেন টেন্ডার) পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। ইউনিসেফের অনুরোধ উপেক্ষা করার ফলে দেশে হামের টিকার তীব্র সংকট দেখা দেয়।

বক্তাদের দাবি, সঠিক সময়ে টিকা না পাওয়ায় ৪০০’র বেশি শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।

 

 

 

আয়োজকদের পক্ষে কায়েস আহমেদ অর্ণব নামে এক আইনজীবী বলেন, স্বাস্থ্য খাতে অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও নূরজাহান বেগমকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। শুধু হাম নয়, অন্যান্য টিকার ক্ষেত্রেও এই সরকারের চরম গাফিলতি ছিল। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

 

 

 

মানববন্ধনে আইনজীবী সিলফাত আমিনুল করিম অভিযোগ করে বলেন, তৎকালীন সরকার আগের চুক্তিগুলো বাতিল করলেও কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেয়নি। শিশুদের এই অকাল মৃত্যুর দায় সরকারকে নিতে হবে এবং বর্তমান সরকারের কাছে আমরা এর বিচার দাবি করছি।

 

 

 

কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে কয়েকজন আইনজীবী চোখে ও মুখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান। এ সময় আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী বলেন, ‘চার শতাধিক শিশুর মৃত্যু কেবল গাফিলতি নয়, এটি একটি অপরাধ।’

 

 

শাহজাদপুরে শাশুড়ির পরকীয়া দেখে ফেলায় পুত্রবধূকে হত্যার অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে শাশুড়ির পরকীয়া দেখে পরিবারের সদস্যদের কাছে বলে দেওয়ায় ছেলের বউকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১৩ মে) সকালে উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের বৃ-আঙ্গারু গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
খবর পেয়ে শাহজাদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। এদিকে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শাশুড়ি এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা গা ঢাকা দিয়েছে। নিহত গৃহবধূ তাসলিমা (২২) বৃ-আঙ্গারু গ্রামের মমিনের পুত্র উজ্জ্বল হোসেনের স্ত্রী এবং একই গ্রামের তাহের মণ্ডলের কন্যা।
নিহত তাসলিমার বাবা তাহের মণ্ডল এবং এলাকাবাসী জানান, গত ৮ বছর পূর্বে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে তাসলিমা এবং উজ্জ্বলের বিয়ে হয়। স্বাভাবিক ভাবেই তাদের দাম্পত্য জীবন চলছিল। তাদের সংসারে দুইটি সন্তান রয়েছে। তবে সম্প্রতি তাসলিমা তার শাশুড়ির পরকীয়া সম্পর্ক দেখে ফেলে এবং পরিবারের সদ্যদের কাছে প্রকাশ করলে তার উপর নির্যাতনের খড়গ নেমে আসে। এই নির্যাতনের ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার রাতের কোন এক সময় তাসলিমাকে হত্যা করে ঘরের ভিতর ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করে। ঘটনা জানাজানির পর পরিবারের সকলে আত্মগোপনে চলে যায়।

শাহজাদপুর থানার ওসি (তদন্ত) নাজমুল কাদের জানান, লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। লাশের গলার দাগ দেখে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে এটা আত্মহত্যা নয়। তবে ময়না তদন্তের পর প্রকৃত কারন জানা যাবে।

উল্লাপাড়ায় চলতি মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহের উদ্বোধন

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় অভ্যন্তরীণ বোরো মৌসুমে ধান চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) সকালে খাদ্য বিভাগের আয়োজনে উপজেলার আর/এস খাদ্য গুদামে ধান- চাল সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৪ উল্লাপাড়া আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রায়হানুল ইসলাম, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আইনিন আফরোজ, ওসি এলএসডি মোঃ মিজানুর রহমান, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মোঃ আজাদ হোসেন আজাদ, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা শাহজাহান আলী, সাবেক পৌর মেয়র এম বেলাল হোসেন সহ গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা খাদ্য বিভাগ থেকে জানা গেছে, কৃষকদের কাছ থেকে এ বছরে কৃষি অ্যাপের মাধ্যমে আবেদন গ্রহন করে স্বচ্ছ ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে লটারির মাধ্যমে ধান চাল সংগ্রহ করা হবে।
সরকার এ বছরে উল্লাপাড়া থেকে ৩৬ টাকা কেজি দরে ৩ হাজার ২৮ মেট্রিক টন ধান, ৪৯ টাকা কেজি দরে ৪ হাজার ৩৭৭ মেট্রিক টন চাল, ৩৫ টাকা কেজি দরে ৩০ মেট্রিক টন গম সংগ্রহ করবে।

শাহজাদপুরে দুই কৃষকের জমির আধা পাকা ধান লুটের অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ভাড়াটিয়া মাস্তান দিয়ে সকিম প্রামানিক এবং ফটিক প্রামানিক নামের দুই কৃষকের ৭৮ শতাংশ জমির ধান কেটে লুট করার অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের অভিযোগ, বৈধ কাগজ না থাকলেও ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দিয়ে আব্দুল আজিজ ও তার ভাড়াটিয়া গুন্ডা সুলতান, আলামিন, সাগর, জোমের, মমিন, শাহ আলমসহ একদল সন্ত্রাসী জমির ধান কেটে নিয়েছে। তবে, অভিযুক্ত আব্দুল আজিজ জমির প্রকৃত মালিক দাবী করে জানিয়েছেন, তিনি  নিজের জমির ধান নিজেই কেটে ঘরে তুলেছেন।
ভুক্তভোগী দুই কৃষক সকিম প্রামানিক এবং ফটিক প্রামানিক জানান, উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের খারুয়াজংলা মৌজার এসএ ১৪৭৩ দাগ থেকে ৩০ শতাংশ, ১১৭৯ দাগ থেকে ১৬ শতাংশ এবং ১১৭২ দাগ থেকে ৩২ শতাংশ মিলে মোট ৭৮ শতাংশ জমি ১৯৭৮ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি দুই সন্তান সকিম এবং ফটিকের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন মা শুকুরন নেছা। এরপর থেকে দীর্ঘদিন ধরে সকিম প্রামানিক এবং ফটিক প্রামানিক দুই ভাই ভোগ দখল করে ফসল ফলিয়ে আসছে। কিন্তু হঠাৎই ঐ জমির প্রকৃত মালিক দাবী করে বসেন কায়েমপুর ইউনিয়নের বাড়াবিল গ্রামের আব্দুল আজিজ। সম্প্রতি এ নিয়ে শাহজাদপুর আইনজীবী সমিতিতে উভয় পক্ষকে নিয়ে শালিস বৈঠকও হয়েছে। সেই শালিসে কগজপত্র এবং যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে সকিম প্রামানিক এবং ফটিক প্রামানিক প্রকৃত মালিক প্রমাণিত হলেও সেই সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জোরপূর্বক জমির ধান কেটে নেয় আব্দুল আজিজ। মঙ্গলবার (১২ মে) আব্দুল আজিজ তার ভাড়াটিয়া গুন্ডা বাহিনী সুলতান, শাহ আলম, মমিন,সাগর, জোমেরসহ একদল মানুষকে নিয়ে জমির সব ধান কেটে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় শাহজাদপুর আমলি আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল আজিজ জানান, ‘আমার জমি আমি ভোগদখল করে আসছি। আমার ধান আমিই কেটে নিয়েছি।’

শাহজাদপুর থানার ওসি (তদন্ত) নাজমুল নাদের জানান, এ বিষয়ে এখনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে ক্ষোভ ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের

গরুর হাটে চুরি, ক্রেতার পকেট থেকে উধাও এক লাখ টাকা

নওগাঁর রানীনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আবাদপুকুর গরু-ছাগলের হাটে কুরবানির পশু কিনতে এসে এক লাখ টাকা খোয়ালেন এক ক্রেতা।
বুধবার (১৩ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এই চুরির ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী নুরুজ্জামান (৪২) পার্শ্ববর্তী বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার ঘোড়াঘাট এলাকার মৃত নাজমুলের ছেলে।
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কুরবানির গরু কেনার উদ্দেশ্যে সকাল ১১টার দিকে বাড়ি থেকে রওনা দেন নুরুজ্জামান। হাটে পৌঁছানোর পর ভিড়ের মধ্যে কৌশলে তাঁর প্যান্টের পকেট থেকে নগদ এক লাখ টাকা সরিয়ে নেয় সংঘবদ্ধ চোরচক্র।
ভুক্তভোগী নুরুজ্জামান জানান, “হাটে অতিরিক্ত ভিড় ও বিশৃঙ্খলার সুযোগে আমার টাকা খোয়া গেছে। হাটে কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা চোখে পড়েনি। সংশ্লিষ্টরা যদি পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করত, তাহলে এমন ঘটনা ঘটত না।”
ঘটনার পর তিনি হাট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের অবহিত করেন। তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত বা আটক করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনাটি জানাজানি হলে হাটে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা নিরাপত্তা জোরদারের দাবি তোলেন। তাঁদের অভিযোগ, প্রতি হাটবারে যেখানে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়, সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল।
স্থানীয় সচেতন মহল সতর্ক করে বলেছেন, কুরবানির পশুর হাটগুলোতে প্রশাসনের নজরদারি ও নিরাপত্তা জোরদার না করলে চুরি ও প্রতারণার ঘটনা আরও বাড়তে পারে।
রানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ জাকারিয়া মন্ডল বলেন, “হাটের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ মোতায়েন ছিল। তবে আজ অতিরিক্ত মানুষের চাপে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। চোর ধরতে আমরা কাজ শুরু করেছি এবং আগামীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল হাসান জানান, ঈদকে সামনে রেখে আগেই হাট কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে নিরাপত্তার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। বিশৃঙ্খলা এড়াতে হাটে উন্নয়নমূলক শেড নির্মাণ করা হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রানীনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোসারব হোসেন বলেন, “হাটের সাথে জড়িতদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে এবং ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সজাগ থাকতে বলা হয়েছে।”

১নং তালম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান সম্পদ

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা ঘোষণা করলেন তরুণ সমাজসেবক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান সম্পদ।
তিনি জানান, ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন, সততা প্রতিষ্ঠা এবং সাধারণ মানুষের অধিকার নিশ্চিত করাই তার রাজনীতির মূল লক্ষ্য। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছেন এবং এখন নির্বাচনের মাধ্যমে সেই সেবাকে আরও বিস্তৃত করতে চান।
মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান সম্পদ এলাকাবাসীর কাছে দোয়া, ভালোবাসা ও সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করে বলেন, “আপনাদের সমর্থন ছাড়া কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়। আমি বিশ্বাস করি, আমরা সবাই মিলে ১নং তালম ইউনিয়নকে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে পারি।”
তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই মিলে একটি সুন্দর, আধুনিক ও জনবান্ধব ইউনিয়ন গড়ে তোলাই তার লক্ষ্য। এখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অধিকার সমানভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রার্থিতা ঘোষণার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই তার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে শুভেচ্ছা ও সমর্থন প্রকাশ করেছেন। তরুণ ভোটারদের মাঝে এ নিয়ে ইতোমধ্যেই ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে।
উল্লেখ্য, ১নং তালম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেবেন। নির্বাচন ঘিরে এলাকায় এখন থেকেই প্রচারণার আমেজ শুরু হয়েছে।

রাতভর ভারি বৃষ্টিতে থমকে গেছে জনজীবন, সূর্যের দেখা মিললো দুপুরে

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে কুড়িগ্রাম জেলাসহ বাংলাদেশের বেশ কিছু জায়গায় ১২ মে থেকে ২১ মে পযর্ন্ত হতে পারে ভারি বৃষ্টি। সে তথ্য অনুপাতে কুড়িগ্রাম জেলা জুড়ে ১৩ মে রাত ১ টা থেকে নেমে আসে ভারি বৃষ্টি। যার শেষ হয় বেলা ১২.৩০ টার পর। দীর্ঘক্ষণ টানা বৃষ্টিপাতের ফলে জেলা জুড়ে দেখা দিয়েছে সাধারণ জনগণের দুর্গতি।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভাষ্যমতে গত ২৪ ঘন্টায় কুড়িগ্রামে ১৮৬ মিমি বৃষ্টিপাত হয়। যা এ বছরের সর্বচ্ছ রেকর্ড হিসাবে তালিকায় আসে।
টানা বৃষ্টিপাতের ফলে জনজীবনের বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। অব্যাহত বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে অর্থনীতি এবং কৃষিখাতে। অবিরাম বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে শহর গ্রামের রাস্তা – ঘাট এবং কৃষি জমিতে। এর ফলে চলাফেরায় কষ্ট পোহাতে হচ্ছে জনগণের। এছাড়াও কৃষি জমি গুলোতে পানি হওয়ার ফলে ব্যাহত হচ্ছে ধান কাটা এবং শোকানোর কাজে।
মুষলধারে বৃষ্টির ফলে দিন মজুরি এবং কৃষিসহ নানান সমস্যার মুখী হয়েছে কুড়িগ্রাম জেলার জনগণ। কর্ম বন্ধের পাশাপাশি শহরে বা গ্রামে পানির জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার কারণে ঘর থেকে বাহির হতে পাচ্ছে না অনেকে। এ যেন এক বন্যার পূর্বাভাস।
কিন্তু অবাক করার বিষয় রাত ১ টা থেকে বৃষ্টি হলেও তার শেষ মেলে দুপুর ১২.৩০ পর। এবং সেই সাথে সূর্যের দেখা মিলে দুপুর ২ টায়। এতেও জনসাধারণ সন্তুষ্টি নয়।
খেটে খাওয়া মানুষ এবং দিনমজুরি মানুষ গুলো বলছেন, সময় মত বৃষ্টি বন্ধ না হয়ে অসময়ে বৃষ্টি বন্ধ হয়ে রোদ উঠছে। কিন্তু কর্মে ফেরার সময় এখন নয়। বেলা শেষে কে কাজে নিবে বা কে সঠিক মূল্য দিবে? মালিক পক্ষ যে অর্থ দিবে সেটার জন্য অনেক কষ্ট করতে হবে। তাই অসময়ে বৃষ্টি থেমেও কোন সুফল হয়নি দিনমজুরি মানুষদের।

রাণীনগরে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত, কৃষি ও পুষ্টি উদ্যোক্তা উন্নয়নে নতুন অঙ্গীকার

২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে “প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ” (পার্টনার) কর্মসূচির আওতায় মঙ্গলবার রাণীনগর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এক পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে কৃষি উন্নয়ন, পুষ্টি নিরাপত্তা এবং গ্রামীণ উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি অফিসার মোসা মোস্তাকিমা আক্তার। তিনি বলেন, পার্টনার কর্মসূচি বাংলাদেশের কৃষিখাতে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। এই কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ও তথ্যসেবার সাথে সংযুক্ত করা হচ্ছে এবং গ্রামীণ নারী উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, রাণীনগর উপজেলায় এই কর্মসূচির সুফল ইতোমধ্যে কৃষকদের মধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই কার্যক্রমে অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ-৬ (রাণীনগর-আত্রাই) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলাম। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলো কৃষি, আর সেই কৃষিকে আধুনিক ও টেকসই করতে পার্টনার কর্মসূচির মতো উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। তিনি বলেন, গ্রামীণ কৃষক ও উদ্যোক্তাদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরিতে এই কর্মসূচি রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলার সাধারণ মানুষের জীবন বদলে দিতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এমপি রেজাউল ইসলাম আরও বলেন, কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে বাজার সংযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। তিনি উপস্থিত সকল কৃষক ও উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে বলেন, সরকার সবসময় তাদের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল হাসান বলেন, পার্টনার কর্মসূচি শুধু একটি প্রকল্প নয়, এটি একটি সমন্বিত উন্নয়নের দর্পণ। কৃষি, পুষ্টি ও গ্রামীণ উদ্যোক্তা — এই তিনটি মূলস্তম্ভকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই কর্মসূচি রাণীনগর উপজেলার আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, উপজেলা প্রশাসন সকল সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থার সাথে সমন্বয় করে এই কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করবে। স্থানীয় কৃষকদের আধুনিক কৃষি পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতন করতে এবং তাদের উৎপাদিত পণ্যের সুষ্ঠু বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর বলে জানান তিনি। সভাপতি সকলকে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিলা ইয়াসমিন,, সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম, থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোসারব হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নয়ন খান লুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক মেজবাউল হক লিটনসহ স্থানীয় কৃষক, উদ্যোক্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বগুড়ায় ৫ দফা দাবিতে বিড়ি শ্রমিকদের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসন আমলকে ‘বিড়ি শিল্পের স্বর্ণযুগ’ মনে করতেন শ্রমিকরা। জিয়াউর রহমান স্পষ্টভাবে বলতেন, “বিড়ি হলো গরিব মানুষের সিগারেট। যারা দিনমজুর বা রিকশাচালক, তাদের বিনোদনের উপায় খুব সীমিত। তাই বিড়ির ওপর ট্যাক্স বাড়িয়ে তাদের ওপর চাপ বাড়ানো যাবে না। সেই সময়ের মতো বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আমলে আসন্ন বাজেটে বিড়ি শিল্পের উপর শুল্ক বৃদ্ধি না করার দাবি জানিয়েছেন বগুড়া জেলা বিড়ি শ্রমিক ইউনিয়ন।

 

 

 

বুধবার (১৩ মে) বেলা ১১টায় বগুড়া কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট অফিসের সামনে পাঁচ দফা দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে এ দাবি জানান তারা।

 

শ্রমিকদের দাবি সমূহ- বিড়ির শুল্ক বৃদ্ধি না করা, বিড়ি শ্রমিকদের কর্ম দিবস বৃদ্ধি করা, নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য বৃদ্ধি করা, বিড়ি ফ্যাক্টরির লাইসেন্স থাকলেই ব্যান্ডরোল উত্তোলন বাধ্যতামূলক করা এবং নকল বিড়ি উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধ করা।

 

 

 

মানববন্ধন শেষে বগুড়া কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী কমিশনারের মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর পাঁচ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

 

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিড়ি একটি দেশীয় শ্রমনির্ভর শিল্প, যার ওপর নির্ভর করে সারাদেশের প্রায় ১৮ লাখ শ্রমিকের জীবন জীবিকা। তবে নীতিগত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও বহুজাতিক সিগারেট কোম্পানির ষড়যন্ত্রের কারণে এ শিল্প সংকটে পড়েছে। প্রকৃত রাজস্ব প্রদানকারী বিড়ি মালিকরা অসংখ্য কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছে। সুতরাং বিড়ি শিল্প ও শ্রমিকদের কর্মরক্ষার্থে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিড়ি শিল্পের উপর শুল্ক বৃদ্ধি না করার অনুরোধ করছি। একইসাথে বিড়ি শ্রমিকদের কর্মদিবস বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি।

 

 

 

বক্তারা আরও বলেন, বর্তমানে দেশের তামাক বাজারের ৮০ শতাংশ নিম্নস্তরের সিগারেট দখল করে আছে। এতে বিড়ি শিল্প টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই বিড়ি শিল্প রক্ষায় নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি। নকল বিড়ি উৎপাদন ও বিক্রিকে শিল্পের জন্য বড় হুমকি উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে এবং বৈধ উৎপাদকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ অবস্থায় নকল বিড়ির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। এছাড়াও বিড়ি ফ্যাক্টরির লাইসেন্স থাকলেই ব্যান্ডরোল উত্তোলন বাধ্যতামূলক করার দাবি জানান শ্রমিকরা।

 

 

বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হারিক হোসেনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ-সভাপতি নাজিম উদ্দিন, লুৎফর রহমান, আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল গফুর, সহ-সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসনাত লাভলু, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম ইসলাম, শ্রমিক নেতা সোহেল রানা প্রমূখ।

 

এ সময় শ্রমিকদের হাতে বিভিন্ন দাবি-সংবলিত ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড দেখা যায়, যেখানে দেশীয় শিল্প রক্ষা, বহুজাতিক কোম্পানির প্রভাব প্রতিহত করা এবং বিড়ি শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

 

 

মারা গেছেন সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী এবং চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

 

 

 

বুধবার (১৩ মে) সকাল সোয়া ১০টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮৩ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়।

 

 

 

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। কয়েক দিন ধরে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

 

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অক্টোবর মাসে তিনি গ্রেপ্তার হন। ২০২৫ সালের আগস্টে অসুস্থ হয়ে পড়লে পিজি হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং পরবর্তীকালে জামিনে মুক্ত হন। ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

 

তিনি দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছিলেন। চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

 

 

 

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের ছেলে সাবেদুর রহমান সুমু বাংলানিউজকে বলেন, বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বাদ আসর মিরসরাই উপজেলার মহাজনহাট ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। চট্টগ্রাম শহরে কোনো জানাজা অনুষ্ঠিত হবে না। ঢাকায় একটি জানাজা হবে, তবে সেটির স্থান ও সময় এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

 

 

 

 

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি মীরসরাই উপজেলার ধুম ইউনিয়নের একটি ঐতিহ্যবাহী সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মরহুম এস রহমান তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য। মা পাঞ্জেবুনেছা। পড়াশোনায় বরাবরই মেধাবী ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। ১৯৬৬ সালে তিনি লাহোর থেকে খনিজ বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। সাহসিকতার জন্য লাহোরে বাঙালি ছাত্রদের মধ্যে তুমুল জনপ্রিয় মোশাররফ ১৯৬৪ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত হন। সেখানে পড়াশোনাকালে ১৯৬৬ সালে লাহোরে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্রদের নিয়ে মোশাররফ হোসেন ছয় দফা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৭০-এর নির্বাচনে মীরসরাই আসন থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে যুদ্ধকালীন চট্টগ্রামের সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে তিনি গেরিলাযুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধে অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বপরূপ বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে বাংলাদেশ সরকার ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে।

 

 

সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না নিলে ভয়াবহ হতে পারে পরিস্থিতি

হাম পরিস্থিতির মাঝেই চোখ রাঙাচ্ছে ডিপথেরিয়া

দেশে হামের ব্যাপক সংক্রমণের মধ্যেই নতুন উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিয়েছে আরেক প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগ ডিপথেরিয়া। প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া এ রোগ এখন আবার দেশের বিভিন্ন এলাকায় শনাক্ত হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতা, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা এবং শিশুদের কমে যাওয়া রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে পরিস্থিতি বিপজ্জনক দিকে যাচ্ছে।

 

 

 

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সিলেট, হবিগঞ্জ, কামরাঙ্গীরচর, কিশোরগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডিপথেরিয়ায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। রাজধানীর একাধিক হাসপাতালেও এ রোগে আক্রান্তদের অনেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। এরই মধ্যে এ রোগে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

 

 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, চলমান হাম পরিস্থিতির মধ্যে ডিপথেরিয়ার বিস্তার শুরু হলে শিশুস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নতুন সংকট তৈরি হতে পারে। তাই সে ধরনের পরিস্থিতি যেন সৃষ্টি না হয়, সেই লক্ষ্যে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।

সংক্রমণের শুরু রোহিঙ্গা ক্যাম্পে: ডিপথেরিয়ার বড় প্রাদুর্ভাব প্রথম দেখা যায় ২০১৭ সালে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। ওই বছরের ৩ নভেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সেখানে ১৫ জনের মৃত্যুসহ ৮০৪ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়। প্রথম রোগী শনাক্ত হয় ১০ নভেম্বর, মেদসাঁ সঁ ফ্রঁতিয়ের (এমএসএফ) একটি ক্লিনিকে।

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, আক্রান্তদের ৭৩ শতাংশের বয়স ছিল ১৫ বছরের নিচে এবং এর ৬০ শতাংশই নারী। মারা যাওয়া ১৫ জনের মধ্যে ১৪ জনই ছিল শিশু। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তখনই সতর্ক করেছিল, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ঘনবসতি,অপুষ্টি ও কম টিকা গ্রহণ পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীতেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকির কথা বলা হয়েছিল।

 

 

সতর্কতার পরও কার্যকর প্রস্তুতি হয়নি: জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর আগাম সতর্কতা সত্ত্বেও দেশে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধমূলক পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি।

 

 

 

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সার্ভিল্যান্স তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সিলেট ও হবিগঞ্জে, ২২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে (আইডিএইচ) এবং ২৫ মার্চ কামরাঙ্গীরচরে ডিপথেরিয়া রোগী শনাক্ত হয়। এ ছাড়া ২০২৫ সালের ১৩ আগস্ট ও ২৪ সেপ্টেম্বর আইডিএইচে, ২৬ আগস্ট তেজগাঁওয়ের ইমপালস হাসপাতালে এবং ৮ ডিসেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী শনাক্ত হয়। ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নেওয়া রোগীটি কিশোরগঞ্জ থেকে সংক্রমিত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালেও ডিপথেরিয়ার রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন।

 

 

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি সংক্রমণের নীরব বিস্তারের ইঙ্গিত। সরকার যদি এ সময়ে নীরব থাকে, তাহলে মারাত্মক সংক্রামক এ রোগ ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে, যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।

 

 

 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ড. মুশতাক হোসেন বলেন, মূলত রোহিঙ্গা জনবসতিতে প্রথম ডিপথেরিয়া শনাক্ত হয়। পরে দেশের বিভিন্ন জেলায় রোগী পাওয়া গেছে। কয়েকজনের মৃত্যুর তথ্যও রয়েছে। হাম-পরবর্তী সময়ে শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় ডিপথেরিয়া ছড়িয়ে পড়লে দেশে করুণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

 

 

 

তিনি বলেন, জরুরি ভিত্তিতে ডিপথেরিয়া টিকার বুস্টার ডোজ চালু করতে হবে। ৬ থেকে ৮ বছর বয়সী শিশুদের লক্ষ করে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিশেষ ক্যাম্পেইন চালানো গেলে দ্রুত ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।

 

 

 

কী এই ডিপথেরিয়া: ডিপথেরিয়া বা করিনেব্যাকটেরিয়াম ডিপথেরিয়া হলো একটি গ্রাম-পজিটিভ, মুগুর-আকৃতির ব্যাকটেরিয়া. যা জীবনঘাতী সংক্রামক রোগ ডিপথেরিয়ার জন্য দায়ী। এটি অত্যন্ত সংক্রামক ও গুরুতর রোগ, যা গলা, নাক ও শ্বাসতন্ত্রকে আক্রান্ত করে। এটি টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ তৈরির মাধ্যমে গলায় একটি পুরু ধূসর আস্তরণ সৃষ্টি করে, যার ফলে শ্বাসকষ্ট, গিলতে সমস্যা এবং হার্ট বা স্নায়ুর ক্ষতি হতে পারে। এটি মূলত হাঁচি-কাশির ড্রপলেটের মাধ্যমে ছড়ায় এবং এর সর্বোত্তম প্রতিরোধ ব্যবস্থা হলো টিকাদান। ঐতিহাসিকভাবে ‘শিশুদের শ্বাসরোধকারী দেবদূত’ নামে পরিচিত এ ব্যাকটেরিয়া প্রধানত ঊর্ধ্ব শ্বাসনালিকে সংক্রমিত করে, তবে এটি ত্বকের ক্ষতও (কিউটেনিয়াস ডিপথেরিয়া) সৃষ্টি করতে পারে।

 

 

 

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, ডিপথেরিয়ার প্রধান লক্ষণ হলো গলা ব্যথা, জ্বর, ঘাড়ের গ্রন্থি ফুলে যাওয়া এবং গলায় ঘন ধূসর পর্দা বা আস্তরণ পড়া। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা ব্যবহৃত জিনিসপত্র (তোয়ালে, খেলনা) থেকে এবং সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে এ জীবাণু ছড়ায়। শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির অধীনে ডিপিটি ও পেন্টাভ্যালেন্ট টিকা প্রদান এবং হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখার মাধ্যমে এ রোগের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। টিকা না নেওয়া শিশু, জনাকীর্ণ স্থানে বসবাসকারী এবং অপুষ্টিতে ভোগা ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ডিপথেরিয়ার ঝুঁকিতে থাকেন।

 

 

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ: ডিপথেরিয়া নিয়ন্ত্রণে দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, ডিপথেরিয়া অ্যান্টিটক্সিন, অ্যান্টিবায়োটিক এবং জরুরি টিকাদান কর্মসূচির ওপর জোর দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটি বিশেষভাবে ছোট শিশু, স্বাস্থ্যকর্মী এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা মানুষকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়ার সুপারিশ করেছে।

 

 

 

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, ডিপথেরিয়ার একটি ভয়াবহ সংক্রামক রোগ। আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ডিপথেরিয়া অ্যান্টিটক্সিন সেরাম এবং বেনজাইল পেনিসিলিনের মতো ওষুধগুলো এখন বিরল। ফলে হাসপাতালে ডিপথেরিয়া রোগী এলে তাদের সুস্থতা দান করা কঠিন হয়ে পড়বে। তা ছাড়া হাসপাতালে সাধারণ রোগীদের চাপে হামের রোগীদের জায়গা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এমন সময় ডিপথেরিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে চিকিৎসার ক্ষেত্রে জটিলতার সৃষ্টি হবে। তিনি বলেন, এখনই সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে হামের পর বাংলাদেশ নতুন আরেকটি সংক্রামক সংকটের মুখোমুখি হতে পারে।

 

 

 

যা বললেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: সামগ্রিক বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ডিপথেরিয়ার বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত, করণীয় নিয়ে আমরা ভাবছি।

 

 

 

সুত্র: “দৈনিক কালবেলা”

 

 

 

স্কুলের সেফটি ট্যাংকের দুর্গন্ধে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেফটি ট্যাংকে মরা মুরগি ফেলার ঘটনায় তীব্র দুর্গন্ধে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান।
এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। দুর্গন্ধের কারণে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে গিয়ে ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে অবস্থিত টয়লেটের সেফটি ট্যাংকের ঢাকনা ভেঙে সেখানে দুর্বৃত্তরা মরা মুরগি ফেলে রাখে। এরপর থেকেই পুরো স্কুলজুড়ে অসহনীয় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. সেহেলী খাতুন রায়গঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্গন্ধের কারণে শ্রেণিকক্ষে স্বাভাবিক পরিবেশে পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে চলমান পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী নাকে রুমাল চেপে পরীক্ষা দিচ্ছে। তারপরও দুর্গন্ধে মাথা ঘোরা ও বমির মতো সমস্যায় পড়ছে তারা।
বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, “দরজা-জানালা বন্ধ করেও দুর্গন্ধ থেকে রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না। ক্লাস করতে খুব কষ্ট হচ্ছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের আশপাশে অন্তত ৬ থেকে ৭টি মুরগির খামার রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, খামারের কোনো অসাধু ব্যক্তি মৃত মুরগিগুলো সেফটি ট্যাংকে ফেলে থাকতে পারে।
এ বিষয়ে অভিভাবক আখি খাতুন ও সিদ্দিক প্রামাণিক বলেন, “দুর্গন্ধের কারণে সন্তানরা স্কুলে যেতে চায় না। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. সেহেলী খাতুন বলেন, “থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। মরা মুরগির দুর্গন্ধে বিদ্যালয়ে অবস্থান করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি হাবিবুর রহমান খান বলেন, “প্রশাসন যদি দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে কেউ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট করার সাহস পাবে না।”
অভিযোগের বিষয়ে রায়গঞ্জ থানার এসআই শাহীন আলম মুঠোফোনে জানান, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

রায়গঞ্জে মহাসড়কের পাশে অবৈধ পাথর ডিপো, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ঘুড়কা বাজার এলাকায় মহাসড়কের পাশে গড়ে উঠেছে অবৈধ পাথর বাণিজ্যের একাধিক অস্থায়ী ডিপো। ঘুড়কা পাপিয়া হোটেলসংলগ্ন এলাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে পাথর মজুত ও বিক্রির কার্যক্রম চলায় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের জায়গা দখল করে চন্দন সরকার, তরুণ রায়, নিতীশ কুমার সরকার ও আব্দুল লতিফ হোসেনসহ কয়েকজন ব্যক্তি এ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। উত্তরাঞ্চল থেকে ট্রাকে করে আনা পাথর রাস্তার পাশেই খোলা জায়গায় স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। পরে সেখান থেকেই খুচরা ও পাইকারি দরে বিক্রি করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাটিকুমরুল মহাসড়কের ঘুড়কা পাপিয়া হোটেল এলাকায় রাস্তার ধারে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে পাথরের স্তূপ। কোথাও কোথাও মহাসড়কের একাংশ দখল করে দাঁড়িয়ে আছে পাথরবাহী ট্রাক। এতে সড়কে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে এবং বাড়ছে যানজট।
স্থানীয় মিশুকচালক আতিকুল ইসলাম ও লতিফ জানান, মহাসড়কের পাশে ট্রাক দাঁড় করিয়ে পাথর ওঠানামার কারণে রাস্তা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। সামান্য অসাবধানতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়া ধুলাবালুর কারণে পরিবেশ দূষণও বাড়ছে।
একাধিক পরিবহন চালক অভিযোগ করে বলেন, রাতে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাক ও পাথরের স্তূপের কারণে গাড়ি চালাতে চরম ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়। অন্ধকারে অনেক সময় সামনে কী রয়েছে তা বোঝা যায় না।
সচেতন মহলের দাবি, অনুমোদন ছাড়াই মহাসড়কের পাশে এভাবে পাথর মজুত ও বিক্রি সম্পূর্ণ বেআইনি। প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির অভাবে সংশ্লিষ্টরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন।
এ বিষয়ে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, “মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে পাথর মজুত ও বিক্রির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লাপাড়ায় পুকুর খননের সময় উদ্ধার কষ্টিপাথরের প্রাচীন দুর্গা মূর্তি

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় শত বছরের পুরানো একটি পুকুর খননের সময় কষ্টিপাথরের তৈরি একটি দুর্গা মূর্তি উদ্ধার হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে উপজেলার বাঙালা ইউনিয়নের চেংটিয়া বড় আইন্দা পুকুরে খননকাজ চলাকালে শ্রমিকরা মূর্তিটি দেখতে পেয়ে উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেন। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে শত শত মানুষের ভিড় জমে।
পুকুরের মালিক রুহুল আমীন জানান, প্রায় ১৬ বিঘা আয়তনের এই প্রাচীন পুকুর থেকে এর আগেও কষ্টিপাথরের একটি বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার হয়েছিল। এবার একই পুকুর থেকে দুর্গা মূর্তি পাওয়া গেল।
উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম বলেন, শত বছরের পুরানো পুকুরে কষ্টিপাথরের একটি দুর্গা মূর্তি পাওয়া গেছে। মূর্তিটির ওজন আনুমানিক ৪০ কেজি হতে পারে। বিষয়টি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে মূর্তিটি তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ঈদ উপলক্ষে ২৩ মে’র ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু আজ

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বুধবার (১৩ মে) থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। অবৈধ টিকিট বিক্রি রোধে শতভাগ আসনের টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হবে।

 

 

 

বুধবার (১৩) সকাল ৮টায় বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর আসনের টিকিট বিক্রি শুরু হয়। আর দুপুর ২টায় পূর্বাঞ্চলে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর আসনের টিকিট বিক্রি শুরু হবে।

 

 

 

রেলওয়ে জানিয়েছে, যাত্রীরা শুধু বাংলাদেশ রেলওয়ের অনলাইন ওয়েবসাইট এবং ‘রেল সেবা’ অ্যাপ ব্যবহার করে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।

 

ঈদ উপলক্ষে রেলওয়ের নেওয়া কর্মপরিকল্পনা থেকে জানা গেছে, ঈদের আগে পাঁচ দিনের ট্রেনের আসনের টিকিট বিশেষ ব্যবস্থায় অগ্রিম বিক্রি করা হবে। আন্তঃনগর ট্রেনের ২৪ মে’র আসনের টিকিট বিক্রি হবে ১৪ মে, ২৫ মে’র আসনের টিকিট বিক্রি হবে ১৫ মে, ২৬ মে’র আসনের টিকিট বিক্রি হবে ১৬ মে এবং ২৭ মে’র আসনের টিকিট বিক্রি হবে ১৭ মে।

 

রেলওয়ের সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, একজন যাত্রী ঈদ অগ্রিম যাত্রার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ একবার টিকিট কিনতে পারবেন এবং প্রতি ক্ষেত্রে সর্বাধিক চারটি টিকিট ক্রয় করতে পারবেন। ঈদ অগ্রিম যাত্রার টিকিট রিফান্ড করা যাবে না।

 

 

যাত্রীদের অনুরোধে যাত্রার দিন মোট আসনের (উচ্চ শ্রেণি ব্যতীত) ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট স্টেশন কাউন্টার থেকে বিক্রি করা হবে।

 

 

 

এদিকে, ঈদের চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ২৮, ২৯ ও ৩০ মে তারিখের টিকিট বিক্রি করা হবে।

 

 

 

সাদিক কায়েমের বিয়ের দাওয়াত পেলেন স্পিকার

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। এসময় তিনি স্পিকারকে তার বিয়ের আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেন।

 

 

 

মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে সাদিক কায়েমের ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়।

 

 

 

ওই পোস্টে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম।

এসময় তিনি স্পিকারকে তার বিয়ের আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেন। স্পিকার জীবনের নতুন অধ্যায়ের জন্য শুভকামনা ও দোয়া জানিয়েছেন। পাশাপাশি ডাকসুর বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। আগামীর বাংলাদেশের রোল মডেলে উন্নীত হোক ডাকসু এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

 

 

 

সোনাইমুড়ীতে ইয়াবাসহ তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি আটক

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবা, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোনসহ এক তালিকাভুক্ত মাদক কারবারিকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) নোয়াখালী জেলা কার্যালয়।

মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সোনাইমুড়ী থানাধীন জয়াগ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের যোগিখিল পাড়া উলুপাড়ায় আব্দুর রহমান ঠিকাদার বাড়ি এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে যোগিখিল পাড়ার বাসিন্দা ছালে আহম্মেদ প্রকাশ খোকন (৪২)-এর নিজ বসতঘরে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৫২ পিস মিথাইল অ্যাম্ফিটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেট, মাদক বিক্রির ১ হাজার ৭০০ টাকা নগদ অর্থ এবং মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত একটি সিমযুক্ত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

আটক ছালে আহম্মেদ প্রকাশ খোকন উপজেলার জয়াগ ইউনিয়নের যোগিখিল পাড়া এলাকার মৃত আজিজুল হকের ছেলে।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে সোনাইমুড়ী থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।

এ বিষয়ে নোয়াখালী জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ জানান, মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।